প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:২৭ পিএম
আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:০৭ পিএম
রবিবার সকালে নিউ সুপার মার্কেটে আসেন সজিব। নিজের পুড়ে যাওয়া দোকান দেখে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রবা ফটো
‘সকাল থেকে কিছু ভালো লাগছে না। বাসায়ও থাকতে পারছি না। বিছানায় শুয়ে চোখ বুজলেই আগুন দেখি। মনে হয়, এখনও দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।’
চোখেমুখে হতাশা আর দুশ্চিন্তা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন আগুনে পোড়া রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. সজিব। মার্কেটের দ্বিতীয় তলার ২৩০ নম্বর দোকান তার। আগুনের লেলিহানে শত শত দোকানের সঙ্গে পুড়ে গেছে তার আয়ের অবলম্বনটিও।
গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর অন্যতম পাইকারি কাপড়ের মার্কেট বঙ্গবাজারে ভয়াবহ আগুন লাগে। কয়েক হাজার দোকানসহ ভস্মীভূত হয় পুরো মার্কেটটিই। সেই ক্ষত না শুকাতেই নিউ মার্কেটসংলগ্ন নিউ সুপার মার্কেট আগুনে পুড়ল। বঙ্গবাজারের মতো ব্যবসায় ধস নামল এখানেও। নিঃস্ব হয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।
এখন ঈদের মৌসুম। জমে উঠছে ঈদ মার্কেট। সাধারণত সারা বছর এমন মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন ব্যবসায়ীরা। তাই এ সময় কেউ ঋণ করে, কেউ সম্পদ বিক্রি করে দোকানে মালামাল তুলে থাকেন। জমজমাট বেচাবিক্রির আশায় থাকা এসব ব্যবসায়ী এখন দিশাহারা। সর্বনাশা আগুনে নিমিষেই স্বপ্ন হয়েছে দুঃস্বপ্ন। ধারকর্য করে যারা দোকান সাজিয়েছেন, সে ঋণ মেটাবেন কীভাবে? তাদের কপালে এখন সে চিন্তার ভাঁজ।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নিউ সুপার মার্কেটে আসেন সজিব। নিজের পুড়ে যাওয়া দোকান দেখে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব সজিব বলেন, ‘কেরানীগঞ্জে বাবার জায়গা বিক্রি করে দোকান নিছি। পরে দোকানে মাল উঠাতে পারি না। এদিক সেদিক থেকে টাকা এনে ঈদের আগে মাল উঠাইছি। সামনে ঈদ, চিন্তা করছি বেচাকেনা করে মানুষজনকে টাকাগুলো দিয়ে দেব।’
চিন্তা করলেও বেচাবিক্রি করে ধারের টাকা পরিশোধ করা হলো না সজিবের।
চোখের জ্বলে সজিব বলতে থাকেন, ‘শুক্রবার রাইতে দোকানদারি কইরা গেছি। এর আগে বেচাকেনা ছিল না। শুক্রবারেই কেবল বেচাকেনাটা শুরু হইছে। ওইদিন থেকে এই ১০ দিন বেচাকেনা হইব। শুক্রবারে বেচাকেনা সাইরা রাত্রেবেলা চারটা বাজে বাসায় গেছি। এরপর ফোন দিছে যে, তোগো মার্কেট পুইড়া গেছে।’
‘আইসা দেখি আগুন জ্বলতেছে। আগুনের তাপে দাঁড়াইতে পারি না। তারপরও কষ্ট কইরা ঢুকছি জীবনের ঝুঁকি নিয়া। ঢুইকা দেখি উপর থেকে গরম পানি আর কাঁচের টুকরা পড়তেছে। পরে আর সামনে যাইতে পারি নাই।’
আজও মার্কেটের সামনে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সারা রাইতে ঘুমাইতে পারি নাই। চোখ বুজলেই আগুন দেখি। কোথাও কিছু ভালো লাগছে না। বাসা থেকেও আসতে দিতেছে না।’
এদিকে প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর নিউ সুপার মার্কেটের আগুন নিভেছে। রবিবার সকাল ৯টায় আগুন পুরোপুরি নির্বাপিত করে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটে আগুন লাগে। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এরপর আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগে ২৭ ঘণ্টা। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসে কাজ করেন সেনা, বিমান, নৌবাহিনীসহ পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা।