বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৩ ০০:২১ এএম
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ছে। প্রবা ফটো
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ছে। ঈদের ছুটিতে আগেভাগেই বাড়ি ফিরতে সদরঘাটে আসছেন যাত্রীরা। অচলাবস্থা কাটিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ঘরে ফেরাতে ব্যস্ততা বাড়ছে সদরঘাটে। নিয়মিত চলাচল করা লঞ্চগুলো প্রায় পূর্ণ যাত্রী নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দ্যেশ্যে রওনা করছে। ঈদ উপলক্ষে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই শুরু হয়েছে অগ্রিম টিকিট বিক্রিও। শনিবার (১৫ এপ্রিল) বিকালে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে টার্মিনাল এলাকায় বেড়েছে যাত্রীদের উপস্থিতি। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চগুলোতে বেড়েছে যাত্রীর সংখ্যা। যাত্রী সংকটে প্রতিটি রুটে ২ থেকে ৩টি করে লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করলেও ঈদ উপলক্ষে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চগুলো যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে গেছে লঞ্চগুলোর কেবিন। ডেকেও দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়।
লঞ্চ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন লঞ্চে যাত্রী সংকট থাকলেও ঈদ উপলক্ষে এখন যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই পরিবার নিয়ে ঈদে বাড়ি ফিরতে অগ্রীম টিকিটও বুকিং দিচ্ছেন। তবে বিগত ঈদগুলোর চেয়ে এবার যাত্রী সংখ্যা কম বলে জানান তারা। ঈদ উপলক্ষে আগামী সোমবার থেকে প্রতিটি রুটে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলেও জানান তারা।
ঢাকা-ভাণ্ডারিয়া রুটে চলাচলকারী ফারহান-৯ এর করণিক অপু আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের লঞ্চ ১৬ দিন পর ট্রিপ শুরু করছে। এতদিন যাত্রী ছিল না। তবে আজ কেবিনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ডেকেও ২৫০ এর বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। ঈদের কারণে এখন যাত্রী কিছুটা বাড়ছে।’
যাত্রাবাড়ী থেকে আসা বরিশালগামী যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য এসেছি। আমি পরে যাব। এবার ভোগান্তি কম হয়েছে। আসার সঙ্গে সঙ্গেই টিকিট পেয়েছি।’
এদিকে আগের থেকে যাত্রী বাড়লেও বাড়েনি লঞ্চের ভাড়া। সরকার নির্ধারিত ভাড়া থেকে কিছুটা কম ভাড়া আদায় করতে দেখা যায় টিকিট বিক্রেতাদের। ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেকে প্রতিটি যাত্রীর ভাড়া গুণতে হচ্ছে ৩০০ টাকা। সিংগেল কেবিনে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, ডাবল কেবিনে ভাড়া রাখা হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা করে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ডেকে ভাড়া রাখা হচ্ছে ৫০০ টাকা। সিংগেল কেবিনের জন্য যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে ১৩০০ টাকা, ডাবল কেবিনে এর পরিমাণ ২৫০০ টাকা। ঢাকা-ভোলা রুটেও সরকার নির্ধারিত ভাড়া থেকে কম ভাড়া রাখা হচ্ছে। তবে যাত্রীর চাপ বাড়লে ভাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে বলে জানান লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী প্রিন্স আওলাদ-১০ এর করণিক সাজ্জাদ বলেন, ‘আমরা ডেকে ৩০০ টাকা করে ভাড়া রাখছি। আর সিংগেল কেবিনে ১০০০ টাকা, ডাবল ২০০০ টাকা। যাত্রী কম তাই সরকার নির্ধারিত ভাড়া থেকে কম ভাড়া রাখা হচ্ছে। তবে কাল বা পরশু থেকে ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হতে পারে।’
মিরপুর থেকে আসা মেহেদী হাসান বলেন, ‘ভার্সিটি আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। তাই ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি যাচ্ছি। বাসের চেয়ে লঞ্চ কিছুটা আরামদায়ক। আর ভাড়াও কম। তাই লঞ্চেই যাচ্ছি।’
এদিকে ঈদ উপলক্ষে ১৭ এপ্রিল থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রির কথা থাকলেও আগে থেকেই অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেকে যাত্রী টার্মিনালে এসে অগ্রীম টিকিট সংগ্রহ করছেন। অনেকেই ফোন করে কেবিন বুকিং দিচ্ছেন। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কেবিন বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পারাবত-১১ এর করণিক এনামুল হক বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই অগ্রিম টিকিয় বিক্রি শুরু করেছি। এখনও তেমন বিক্রি হয়নি। তিনভাগের একভাগ অগ্রিম কেবিন বুকিং হয়েছে এ পর্যন্ত। ২০ তারিখ পর্যন্ত টিকিট মানুষ নিচ্ছে। ২৮ বা ২৯ রমজানের টিকিট একটু বেশি বিক্রি হতে পারে।’
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিবারের মতো এবারও বিশেষ ফোর্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে র্যাবের একটি বিশেষ দল।
সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুর রহমান খান বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তায় যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীর চাপ বাড়লে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। সবাই যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে।’
লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব শহিদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আপাতত প্রতিটি রুটে আমাদের ২ থেকে ৩টি করে লঞ্চ চলছে। যাত্রী বাড়লে পরশু থেকে প্রতিটি রুটে লঞ্চ সংখ্যা বাড়ানো হবে। চাহিদা থাকলে বিশেষ ট্রিপও চালু করা হতে পারে। আমরা ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকেও কম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক কবির হোসেন বলেন, ‘ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও আগের থেকে যাত্রী কম। তবে ঈদ উপলক্ষে যাত্রী কিছুটা বাড়বে। গত ঈদ মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৬৮টি লঞ্চ দক্ষিণাঞ্চলের ৪১টি রুটে চলাচল করত। তবে যাত্রী কমে যাওয়ায় এ বছর ৪৬টি লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ’