নিউ সুপার মার্কেট আগুন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৩ ২২:৩১ পিএম
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৩ ২২:৩৬ পিএম
অগ্নিকাণ্ডস্থলে সংবাদ সম্মেলন করছেন অধিদপ্তরের পরিচালক (উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ) লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল করিম। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট (দক্ষিণ) বণিক সমিতির নির্বাচনের ব্যানার-ফেস্টুনের কারণে মার্কেটটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) রাতে অগ্নিকাণ্ডস্থলে সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের পরিচালক (উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ) লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল করিম গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আসন্ন ঈদের পর ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটে (দক্ষিণ) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বণিক সমিতির নির্বাচন। তাই পুরো মার্কেট ছেয়ে ছিল নেতা-কর্মীদের ব্যানার ফেস্টুনে। আর এসব ব্যানার-ফেস্টুনের কারণে মার্কেটে আগুন দ্রুত ছড়ায়।
তিনি আরও বলেন, মার্কেটটির ফায়ার সেফটি সিস্টেম অত্যান্ত দুর্বল ছিল। ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশন থেকে একটি দোকান বরাদ্দ নিয়ে করিডোরে আরো দুই-তিনটি সাব দোকান দিয়েছিলেন। যার কারণে করিডোরগুলো খুবই সংকীর্ণ হয়ে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে কাপড়ের মাধ্যমে আগুন ছড়িয়েছে। এ ছাড়া মার্কেটের ফলস ছাদ, উপরে প্লাস্টিক আইটেম কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সব বিষয়ে আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার। এগুলো পরিহার করার সময় এসেছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল করিম বলেন, আগুন এখনো পুরোপুরি নেভানো যায়নি। আমাদের কিছু ইউনিট এখনো কাজ করছে। তবে এখন আর বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা আমরা করছি না।
মার্কেটের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, মার্কেটের ভেতরের সবগুলো দোকানের সাঁটার আটকানো ছিল। যার ফলে দোকানের ভেতরের জামাকাপড় বা ফেব্রিক্সগুলোতে এখন মোল্ডারিং অ্যাফেক্ট হচ্ছে। অর্থাৎ, তুষের আগুনের মতো কাপড়গুলো জ্বলছে। তাই আমরা প্রতিটি দোকানের সাঁটারগুলো খুলে খুলে পরীক্ষা করছি এবং পানি দিয়ে আগুন নেভাচ্ছি।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, যেহেতু আমরা একটি একটি করে দোকান পরীক্ষা করছি, তাই আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগবে।
আগুনে কতগুলো দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই তলা ও তিন তলার বেশিরভাগ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ নির্দিষ্ট সংখ্যাটি সিটি করপোরেশন বলতে পারবে। আমরা ধারণা করছি ২৫০-৩০০ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আগুনে ফায়ার সার্ভিসের ২৪ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তাদের বেশিরভাগের ধোঁয়ায় শ্বাসনালীতে সমস্যা হয়েছে।