প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৫২ পিএম
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:১৩ পিএম
বঙ্গবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ২০ লাখ টাকা সহয়াতা দিলেন হিজড়া সম্প্রদায়। প্রবা ফটো
রাজধানীর বঙ্গবাজারে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের লোকজন। সারা দেশের এ সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী আসন্ন ঈদুল ফিতরে নিজেদের শপিংয়ের টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
রবিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বঙ্গবাজার পুড়ে যাওয়া মার্কেটস্থলে ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ সহায়তা অনুদান দেওয়া হয়। এ সময় ঢাকাসহ আশপাশের গুরুমারা আসেন। প্রায় শতাধিক হিজড়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ হিজড়া উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশ্মির দিপালী হিজড়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে আমরা তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলেছি। আজকে তাদের এই বিপদের সময় আমরা আমাদের এবারের ঈদের যেসব কেনাকাটা রয়েছে, সেই কেনাকাটা না করে আমরা আমাদের এই ব্যবসায়ী ভাইদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। সারা দেশ থেকে ২০ লাখ টাকা আমরা তুলেছি। সেই টাকা আজ তাদের কাছে দিতে এসেছি। তারা বেঁচে থাকলে আমরাও বেঁচে থাকব।’
এ সময় গুরুমা রাখি শেখ বলেন, ‘আমরা মানুষের কাছ থেকে এক দুই টাকা করে উঠিয়ে উঠিয়ে এই টাকা জমিয়েছি। এখন আমরা সেটা মানবতার কল্যাণেই দিয়ে দিব। এই টাকা কোনো ব্যবসায়ীর হাতে হাতে দেওয়া হবে না, পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা তহবিলে জমা দেওয়া হবে। সেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হাতে হাতে এই টাকা পৌঁছানো হবে।’
এর আগে সকালে রাজধানীর উত্তরা এলাকার ট্রান্সজেন্ডারদের সর্দার আলেয়া হজের জন্য জমানো টাকা থেকে ২ লাখ টাকা বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীদেরকে অনুদান হিসেবে দেন। বঙ্গবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দুর্দশা দেখে এবার হজ না করেই এ টাকা অনুদান হিসেবে ব্যবসায়ীদের দিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তাদের অনুদানের টাকা পেয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন আনন্দের কথা জানান। সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ হাতে পাওয়া টাকার মধ্যে সবচেয়ে আনন্দদায়ক হলো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। এটা আমাদের কাছে মনে হয়েছে মানবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। এ কারণে আমরা ব্যবসায়ী ভাইদের অনুরোধ করব তাদের যেনো কখনো অবহেলার চোখে না দেখে। এখন থেকে আমরা হিজড়া জনগোষ্ঠীকে শ্রদ্ধার চোখে দেখব।’