× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

থানায় ঢুকে পুলিশ হত্যা, ৩০ বছর পর একজন গ্রেপ্তার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:৫৭ পিএম

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৮:৪২ পিএম

গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে ছাত্তার

গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে ছাত্তার

ছদ্মবেশে থানায় ঢুকে পুলিশ হত্যা ও অস্ত্র লুটের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। নাটোরের সাইফুল ইসলাম নামে এই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জে ছাত্তার নামে আত্মগোপনে ছিলেন। র‌্যাব ৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য দেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৮৭ সালে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার অস্ত্র লুট ও পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন চরমপন্থী সাইফুল ইসলাম ওরফে মানিক (৫৬)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ৩-এর একটি আভিযানিক দল শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।’

রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে (১০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

র‌্যাব কর্মকতা আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, ‘১৯৮৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার হাটের দিন বেলা ১১টার দিকে একদল চরমপন্থী ছদ্মবেশে লুঙ্গি-গামছা পরে হাতে পুঁটলা নিয়ে হাটের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে থাকে। ওই পুঁটলার মধ্যে তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্র লোকানো ছিল। তাদের মধ্যে কিছু লোক অস্ত্র প্রদর্শন করে টেলিফোন অফিসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড বিকল করে দেয় এবং কয়েকজন থানায় জিডি করার কথা বলে ভেতরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে নিয়ন্ত্রণ নেয়।

‘থানায় পাহারারত কনস্টেবল হাবিবুর রহমান বাধা দিলে চরমপন্থীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। তারা থানার অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র লুট করে। এ সময় তারা দুটি এসএমজি, চারটি এসএলআর, ১৮টি ৩.৩ রাইফেল ও গোলাবারুদ লুট করে থানার লকআপে বন্দি চরমপন্থী আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। তারা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য একযোগে টেলিফোন অফিস ও থানা কম্পাউন্ডে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে তারা তাঁচকৈর হয়ে পূর্বদিকে গারিসাপাড়া হয়ে ধামাইর মাঠের দিকে চলে যায়।’

এ ঘটনায় মামলা হয়। তদন্ত শেষে সিআইডি পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে জানিয়ে র‌্যাব কর্মকতা বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জবানবন্দি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় আদালতে। বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০০৭ সালে ওই মামলার রায় দেন আদালত।

গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, ‘সাইফুল ১৯৮৪ সালে তারেক নামে এক চরমপন্থী নেতার মাধ্যমে সর্বহারা দলে যোগ দেন। তারেক প্রতি সপ্তাহে চাটমোহর এলাকায় উঠতি বয়সের যুবকদের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে উঠান বৈঠক করতেন। বৈঠকে তারেক আকর্ষণীয় কথাবার্তা বলতেন। সর্বহারা দলে যোগ দিলে অভাব-অনটন থাকবে না। সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। কেউ তাদের কাজে বাধা দিলে তাদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তারা পুলিশ হত্যা করে থানা-ফাঁড়ি লুট করবেন। এরূপ আকর্ষণীয় কথায় মুগ্ধ হয়ে সাইফুল সর্বহারা দলে যোগ দেন। তারা হত্যা, লুটপাট, ত্রাস, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির কাজে অংশগ্রহণ করতে থাকেন।

‘চরমপন্থীদের সাথে যোগ দেওয়ায় এলাকার সবাই সাইফুলকে সমীহ করতেন। যাদের সাথে তার বিরোধ ছিল, চরমপন্থীদের আশ্রয়ে থাকায় সবাই তার সাথে আপস-মীমাংসা করে নেন। চরমপন্থী নেতা তারেক ওই ঘটনার দুই মাস আগে গুরুদাসপুর থানা লুট করার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তারেক ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, পাবনা, টাঙ্গাইল এলাকা থেকে চরমপন্থী দলের সদস্যদের একত্র করেন। ঘটনার দিন তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৬০ জন জড়ো হন। তারা গুরুদাসপুর থানা, টেলিফোন অফিসের আশপাশ ও হাট এলাকায় অবস্থান নেন। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে থেকে কয়েকজন সার্বক্ষণিক টেলিফোন অফিসের কর্মী ও গুরুদাসপুর থানার ফোর্সের গতিবিধির ওপর নজরদারি করেন।’

র‌্যাব কর্মকতা বলেন, থানা লুট করার পর সাইফুল তার বাড়িতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন। কিন্তু পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলা চলাকালে সাইফুল জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক জীবন শুরু করেন। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সাইফুল আর আদালতে হাজিরা দেননি। তার অনুপস্থিতে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

থানা লুট ও হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় সাইফুলের নামে পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানান র‌্যাব ৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।


প্রতিনিধি/টিকে/এমআই

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা