ফয়সাল খান
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৩ ০৮:৪১ এএম
আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৩ ০৯:০০ এএম
আলোচনাতেই গেল বর্জ্য বিদ্যুতের ১১ বছর। ছবি : সংগৃহীত
নানা রকম দূষণ, জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রবসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী। এর অন্য প্রধান কারণ সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব। তা ছাড়া বর্জ্য ফেলার জায়গারও অভাব রয়েছে সারা দেশে। এসব সমস্যা সমাধানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু ১১ বছর ধরে এ নিয়ে আলোচনা আর বড় বড় সেমিনার হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ২০১২ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প নেয়। এরপর ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি সিটি করপোরেশন আলাদা উদ্যোগ নেয়। এমনকি পৌর এলাকাতেও এমন প্ল্যাট স্থাপনের আলোচনা শুরু হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১২ সালে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ইতালিয়ান ম্যানেজমেন্ট ইন্টার এনভায়রনমেন্ট ফিন্যান্সের সঙ্গে তাদের চুক্তিও হয়। প্রথম দেড় বছরে দুটি প্ল্যান্টে ১০ মেগাওয়াট, দুই বছরে ৩০ মেগাওয়াট ও তিন বছরে ৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনে যাওয়ার কথা। প্রকল্পটি আর সামনে এগোয়নি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। সেখানে ভূমি উন্নয়নের কিছু কাজ শুরু হলেও বিশেষ অগ্রগতি নেই।
১৯৯০ সালে মাতুয়াইলে বর্জ্য ডাম্পিংয়ের জন্য ৫০ একর জমির ওপর ল্যান্ডফিল তৈরি করে তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি)। তখন ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ৬৪ লাখ ৮৭ হাজার। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে আরও ৩১ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রসারণ করা হয়। এ ল্যান্ডফিলের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১৬ সাল পর্যন্ত। একই অর্থবছরে আমিনবাজারে ৫০ একর (১৫৬ বিঘা) জমিতে আরেকটি ল্যান্ডফিল তৈরি করা হয়। এর মেয়াদ ধরা হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর। জমি অধিগ্রহণ করে ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যও জায়গা রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার জনসংখ্যা ও এলাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে নতুন করে ৩৬টি ওয়ার্ড সংযুক্ত করা হয়েছে। আবার টঙ্গী, সাভার ও কেরানীগঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে যুক্ত করার চিন্তা করছে সরকার। এসব বিদ্যমান এলাকার সঙ্গে বাড়তি এলাকার বর্জ্য ডাম্পিং নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। এভাবে জমি অধিগ্রহণ করে ডাম্পিং স্টেশন তৈরি না করে বর্জ্যকে শক্তিতে রূপন্তরিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিএনসিসি সূত্র বলছে, ২০২০ সালের শেষের দিকে আমিনবাজারে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে চারটি চুক্তি হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, ডিএনসিসি ও চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (সিএমইসি) মধ্যে এ চুক্তি হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। এখানে প্রতিদিন কমবেশি তিন হাজার টন বর্জ্য লাগবে। প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১৮ দশমিক ২৯৫ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ডিএনসিসি ৩০ একর জায়গা দেবে। জায়গার ভাড়া বাবদ প্রায় দুই কোটি টাকা পাবে ডিএনসিসি।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ চলমান। আমরা জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখন মাটি ভরাটের কাজ চলছে। শেষ হলে মূল কাজ শুরু হবে।’ তিনি বলেন, বর্জ্য এখন আর বর্জ্য নেই। এটি এখন এনার্জি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট হলে ভূমির ওপর চাপ কমবে। পরিবেশদূষণও কমবে।
চীন, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দফায় দফায় আলোচনা করেছে ডিএসসিসি। নানা পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে যায়নি ডিএসসিসি। তবে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
তারা বলছেন, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নতুন ৮১ একর জায়গার মধ্যে ৩১ একর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে। একনেকে অনুমোদন হলে আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে। পরে ডিজাইনের কাজ ও তা যাচাই-বাছাইয়ের পর এলজিইডি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে দ্রুত আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের মডেল উপস্থাপন করেছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেব।