প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:২৩ এএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৫২ এএম
রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে র্যাব
রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতাসহ ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতভর রাজধানীর কমলাপুর, শাজাহানপুর, মতিঝিল, মুগদা, পল্টন, হাতিরঝিল এবং তেজগাঁও এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন--আরিফ হোসেন, মো. ইসলাম, মো. বাবু, মো. টিটু, মো. শরিফ, মো. নুরে আলম, মো. মুরাদীল মুস্তাকিম মুরাদ, হৃদয়, মো. হোসেন ওরফে মোটু, মো. জয়, মো. সুমন, মো. ইয়াছিন রাব্বি, টিটু , মো. পরান, রাসেল, মো. জীবন সরদার, মো. শুক্কুর, মো. সাগর হোসেন, মাসুম খান, মিহির তালুকদার, মো. হোসেন, মো. ফারুক, মো. মেহেদী হাসান, সুজন, মো. জুলহাস, মো. কবির হোসেন, দেওয়ান আলী ও মো. তৌহিদ হাওলাদার।
র্যাব জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা দিন দিন বেপরোয়াভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে র্যাব-৩ ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে কমলাপুরে এক নারীর গলা থেকে স্বর্ণের চেন ছিনতাই করে দৌড়ে পালানোর সময় পিছু ধাওয়া করে ছিনতাইকারী আরিফ হোসেনকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, এ ছাড়া রাতভর শাজাহানপুর, মতিঝিল, মুগদা, পল্টন, হাতিরঝিল এবং তেজগাঁও থানাধীন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন অভিযান চালিয়ে আরও ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৮টি মোবাইল, ৭টি সুইচ গিয়ার, ২টি এন্টি কাটার, ৬টি ব্লেড, ১টি কাঁচি, চাকু, ক্ষুর, বিষাক্ত মলমের কৌটা জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের চেন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক বলেন, রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারী সদস্যরা ঘোরাফেরা করতে থাকে। এরপর যাত্রীদের টার্গেট করে কখনও তাদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কখনও বিষাক্ত চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এভাবে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়। এ ছাড়া কখনও ভিড়ের মধ্যে যাত্রীদের চোখে-মুখে বিষাক্ত মলম বা মরিচের গুঁড়া বা বিষাক্ত স্প্রে করে যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তুলনামূলক জনশূন্য রাস্তা, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাদের ছিনতাইকাজে বাধা দিলে তারা নিরীহ পথচারীদের প্রাণঘাতী আঘাত করতেও দ্বিধাবোধ করে না।
এক প্রশ্নের উত্তরে আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, খিলগাঁও, মালিবাগ রেলগেট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং,কমলাপুর বটতলা, মতিঝিল কালভার্ট রোড, নাসিরের টেক, হাতিরঝিল, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, পল্টন মোড়, গোলাপ শাহ মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, আব্দুল গণি রোড, মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।
ছিনতাই রোধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
প্রবা/এইচকে/এমজে