প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৩ ২০:৪৫ পিএম
আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৩ ২২:৩০ পিএম
মঙ্গলবার গুলিস্তানে বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত ভবনটি। ছবি : প্রবা
সদরঘাট থেকে রিকশা করে গুলিস্তানের দিকে যাচ্ছিলাম। সিদ্দিক বাজারে আসা মাত্র হঠাৎ বিকট শব্দে এক বিস্ফোরণ হয়। সঙ্গে সঙ্গে কেঁপে উঠে আশেপাশের সব ভবন, যানবাহন। পুরো এলাকা ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। মানুষজনের ছোটাছুটি শুরু হয়। কে কোন দিক দিয়ে দৌঁড়াবে ভেবে পাচ্ছিলো না৷ বিস্ফোরণের কারণে আমিও রিকশা থেকে পড়ে যাই। সামনে তাকানোর অবস্থা ছিল না। তবুও মাটি থেকে উঠে সামনের দিকে গিয়ে দেখি গুলিস্তানমুখী সড়কে শত শত যানবাহন, রিকশা, প্রাইভেট গাড়ি ও পথচারিরা দিকবিদিক ছুটছে।
অনেকে আহত হয়ে জায়গায়ই পড়ে আছে। এছাড়া একটি লোকাল বাসের বাম পাশে বসা প্রায় সবাই আহত। এভাবেই রাজধানীর সিদ্দিক বাজারের বিস্ফোরণের বয়ান দিচ্ছেন আরাফাত হোসেন নামের এক যুবক।
তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কত মানুষ যে আহত ও নিহত হয়েছেন তার হিসাব নাই। নিজের চোখে দেখেছি মানুষের চিৎকার, কান্না।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. রেজোয়ান বলেন, ‘যে ভবনে বিস্ফোরণ হয়েছে তার দুটি ভবন পরেই আমার বাসা। আমি বাসায় শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দের কারণে আমার বাসাও কেঁপে উঠে। তড়িঘড়ি করে ছাদে যাই। তারপর মেইন সড়কের দিকে তাকিয়ে দেখি ধুলা ও ধোঁয়ায় সব অন্ধকার। সঙ্গে সঙ্গে আমি নিচে আসি৷ তারপর দেখলাম পুরো রাস্তায় যানবাহন আর মানুষের দৌড়াদৌড়ি। চিৎকার আর বাঁচার আকুতি। রিকশা, গাড়িতে বসা মানুষগুলোর হাত মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। কেউ মাঠিতে লুটে পড়েছে। ঘটনাস্থল দেখে মনে হয়েছে এ যেন এক ধ্বংসস্তুপ!’
আল-আমীন নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘এমন বিকট শব্দ আগে কখনও শুনিনি। আমি ঘটনাস্থল থেকে একটু অদুরে চা স্টলে বসেছিলাম। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। বিকট শব্দের কারণে আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে যাই। তারপর আমরা কয়েকজন মেইন সড়কে এসে দেখি অনেক মানুষ রক্তাক্ত। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অনেক মানুষ মারাত্বকভাবে আহত হয়েছে। ধারণা করছি অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ মারা যাবে। আর আহত ৫ শতাধিক হবে।’