প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৩ ১২:৫৪ পিএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩ ১২:৫৬ পিএম
বিস্ফোরণে আহত ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ঢাবি ছাত্র নুরুন্নবী।
রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকার মিরপুর রোডে শিরিন ম্যানসন ভবনের তৃতীয় তলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকা নয়জনের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
সোমবার (৬ মার্চ) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন এস এম আইয়ুব হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার বিস্ফোরণে আহত ১৩ জনকে ওই দুই হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারা হলেন জাকির হোসেন জুয়েল, মেহেদী হাসান, তাজউদ্দিন, কবির হোসেন, রাবেয়া খাতুন, নূর নবী, কামাল হোসেন, সোহেল খান, আকবর আলী, আশরাফুজ্জামান, আশা আক্তার, জহুর আলী ও হাফিজুর রহমান। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন দুইজন এবং শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে তিনজনের অবস্থা আশংকাজনক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় আটজনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা পর ছেড়ে দিয়ে বাকীদের ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে অটোরিকশাচালক সোহেল খান ও ঢাবি ছাত্র নুরুন্নবীর অবস্থা আশংকাজনক।
আহত কবির হোসেনের ভাই শাহিন বলেন, তার ভাই নিউমার্কেট এলাকার একটি দোকানের সেলসম্যানের কাজ করেন। বিস্ফোরণের ঘটনায় তার উপর ইট পড়ে আহত হন।
আহত জাকির হোসেনের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে। ঢাকায় মিরপুর-১ নম্বরে থাকেন তিনি। তার বোন বাবলি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমার ভাই একটি কোম্পানিতে চাকরি করে। কোম্পানির কাজে ওই মার্কেটে গেলে বিস্ফোরণে দেয়ালের ইট পড়ে সে গুরুতর আহত হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। পরে খবর পেয়ে আমরা ঢাকা মেডিকেলে যাই।’
অটোরিকশাচালক সোহেলও একইভাবে বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত দেয়ালের আঘাতে আহত হন বলে জানান তার ভাই কাউসার।
অপরদিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স অফিসের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আকবর আলী, অ্যাকাউন্টস অফিসার ও তার ভাতিজা আশরাফুজ্জামান, সিনিয়র অফিসার হাফিজুর রহমান, অ্যাডমিনে কর্মরত আয়েশা আক্তার আশা ও পিয়ন জহুর আলী।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন এস এম আইয়ুব হোসেন জানান, তাদের মধ্যে আয়েশা আক্তারের শরীরের ৪৮ শতাংশ, জহুর আলীর ৪৪ শতাংশ ও আকবর আলীর ৩৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক। এছাড়া হাফিজুর রহমানের শরীরের ৮ শতাংশ ও আশরাফুজ্জামানের ৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।