প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৩ ২২:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৩ ১৪:৫৮ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে উদীচীর নেতারা। ছবি : সংগৃহীত
দুই যুগ আগে ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে বোমা হামলায় ১০ জন সংস্কৃতিকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো সুষ্ঠু বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে।
তিনি বলেন, ‘যশোর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের ব্যাপারে সরকার চূড়ান্ত অবহেলা দেখিয়েছে। ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া থেমে আছে। এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় যে, উদীচীর উপর বোমা হামলার সুষ্ঠু বিচার হলে হামলাকারীরা পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক সংঘটিত বোমা হামলার সুযোগ পেতো না।’
অমিত রঞ্জন বলেন, ‘২০০৮ সালের পর মামলাটির তদন্তের ভার সিআইডির হাতে ন্যস্ত হয়েছিল। কিন্তু আজ অবধি আমরা তদন্তের কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি।’
লিখিত বক্তব্যে অমিত রঞ্জন দে উল্লেখ করেন, যশোর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান পরবর্তী সময়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেই জবানবন্দি সূত্র ধরে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে কোনো এক কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনে বাউল গানের অনুষ্ঠানে দুই দফায় মঞ্চের নিচে আগে থেকে পুঁতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
ওই হামলায় প্রাণ হারান- নূর ইসলাম, নাজমুল হুদা, সন্ধ্যা রানী ঘোষ, ইলিয়াস মুন্সী, শাহ আলম বাবুল, বাবুল সূত্রধর, শাহ আলম, সৈয়ান বুলু, রতন রায় ও রামকৃষ্ণ।
আহত হন দেড় শতাধিক মানুষ, যাদের অনেকেই এখনও পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উদীচীর কর্মীরা যশোর হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত ও দ্রুত বিচার শেষ করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
পরে তারা জানান, যশোর হামলার দুই যুগ পেরোনোর পর আগামী ৪ মার্চ সেই যশোরে তিন দিনব্যাপী প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজনের ঘোষণা দেন।
‘দুই যুগেও হয় না বিচার! এই লজ্জা ও অপমান কার’ শিরোনামে আয়োজিত হবে তিন দিনের এ কার্যক্রম। আগামী ৪ মার্চ ২৪ জন চিত্রশিল্পীর চিত্রাঙ্কন ও গ্রাফিতি অঙ্কনের মাধ্যমে শুরু হবে প্রতিবাদী আয়োজন। পরদিন রাজনৈতিক ও শ্রেণি পেশার বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আলোচনা করবেন উদীচীর শিল্পীরা৷ ৬ মার্চ বিকেল ৩টায় যশোর টাউন হল ময়দানে নির্মিত শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন শিল্পীরা।
সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে যশোর টাউন হল ময়দানে প্রতিবাদী সমাবেশ, প্রদীপ প্রজ্বালন, মশাল মিছিল ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত যশোর হত্যাকাণ্ডের শত ছবির প্রদর্শনী হবে টাউন হল মাঠের এক কোণে।
এ ছাড়া ৬ মার্চ দেশের সকল জেলা ও শাখায় যশোর হত্যা দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উদীচী সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম, সহ সভাপতি জামশেদ আনোয়ার তপন, সহ সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম ও যশোর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী উদীচী কর্মী ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ইকরামুল কবীর।