প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:০৩ পিএম
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:২৬ পিএম
দেশ ৮ দশমিক ৩ থেকে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতীকী ছবি
দেশ ৮ দশমিক ৩ থেকে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের দৃঢ়তা। তাই এখন থেকে কঠোরভাবে বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক গোলটেবিল আলোচনায় এমন তাগিদ দেন তারা।
‘বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রশমন ও প্রস্তুতিসংক্রান্ত গোলটেবিল আলোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাবির ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্স বিভাগ। এতে বক্তারা বলেন, ঢাকায় যেসব ভবন তৈরি হচ্ছে তার ১০ ভাগও বিল্ডিং কোড মানছে না। রাজউক নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে সড়কের প্রশস্ততাসহ বাইরের কয়েকটি বিষয় দেখভাল করে। কিন্তু এগুলোও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় না। তাই ভূমিকম্প প্রস্তুতির প্রথমেই বিল্ডিং কোডকে গুরুত্ব দিতে হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মালেক শিকদার বলেন, ’সারা দেশে মাত্র পাঁচ শতাংশ ভবন প্রকৌশলীরা তৈরি করেন। তাই তাদের ছাড়া যাতে কেউ ভবন নির্মাণ করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকাকে কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’
সম্প্রতি গুলশানের অত্যাধুনিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন। তিনি বলেন, ’ভবনটিতে অত্যাধুনিক সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে। কিন্তু দুটি সিঁড়ি একসঙ্গে। স্থাপনা তৈরির সময় ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন তো দূরের কথা, তারা কোনো আবেদনই করেনি। এভাবে ভবন তৈরি হয়ে গেলে ঝুঁকি হ্রাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ’ভূমিকম্প হলে কীভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঢাকা শহরকে আট ভাগে ভাগ করে টিম তৈরি করা হয়েছে।’
রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ হেলালী জানান, এরই মধ্যে ১ হাজার ২০০ প্রকৌশলীকে ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রশমনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য শিক্ষক, গবেষক, নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যমকর্মী ও পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ’৮ দশমিক ৩ থেকে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রশমনে তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।’
ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ’যথাযথভাবে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করতে হবে। এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, ’তুরস্কে ভূমিকম্প হয়েছে, আমাদের দেশেও হতে পারে। আমাদের আস্থার জায়গা হলো সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস। তারা ঢাকাকে যেভাবে আটটি জোনে ভাগ করে পরিকল্পনা সাজিয়েছে, তা প্রশংসনীয়।’
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নাইম মো. শহিদউল্লাহ প্রমুখ।