প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:০০ পিএম
রাজধানীতে গড়ে উঠা ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় কিনা সেটি নির্ণয়ের মতো প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি নেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। বিদ্যমান বাস্তবতায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ন্ত্রণে আলাদা প্রতিষ্ঠান করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভূমিকম্পে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে প্রস্তুতি ও করণীয় শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় উঠে আসে এসব তথ্য।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে থার্ড পার্টির (তৃতীয় পক্ষ) মাধ্যমে ভবনগুলোতে জরিপ চালিয়ে সেগুলো ভূমিকম্প সহনীয় কিনা এ ব্যাপারে সনদ দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রাজউক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী। বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান এনডিসি, বিশ্ব ব্যাংকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মিস স্বর্ণা কাজী, রিহ্যাবের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা প্রমুখ।
ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, রাজউকের বিদ্যমান জনবল দিয়ে ভবনগুলোর সক্ষমতা যাচাই করা কঠিন। তাই থার্ড পার্টির মাধ্যমে নতুন ও পুরনো ভবনগুলোর বিশদ প্রকৌশলগত পর্যালোচনা করতে হবে। এরপর অকুপেন্সি সনদ দিতে হবে।
এই অকুপেন্সি সনদ না থাকলে প্রয়োজনে ভবন সিলগালা করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এবং ড্যাপ প্রকল্পের পরিচালক আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই সনদ না থাকলে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পনির সংযোগ বন্ধ করে দিতে হবে। ভবনের পাশে সড়কের প্রশস্ততা ৩০ শতাংশ না হলে ফায়ার সার্ভিস তাদের কাজ ঠিকমতো করতে পারে না। এমন প্রশস্ত সড়ক ঢাকার পাঁচ শতাংশ এলাকাতেও নেই।
যেসব মালিকরা সব নিয়ম মেনে ভবন তৈরি করবেন তাদেরকে পুরস্কৃত করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, শস্তি দিয়ে যেমন অনিয়ম রোধ করা যায়, তেমনি ভালো কাজের স্বীকৃতি দিয়েও সবাইকে উৎসাহিত করা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, সম্প্রতি তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশও রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ন্ত্রণে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হবে। বাংলাদেশ স্ট্রাকচারাল রিস্ক অ্যান্ড রেজিল্যান্স ইনস্টিটিউট (বিএসআরআরআই) শীর্ষক প্রস্তাবিত এই প্রতিষ্ঠান ভূমিকম্পে দুর্যোগ হ্রাস এবং টেকসই নগর প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে। বিএনবিসি মেনে চলার বিষয়টি তদারকি করতে হবে। বিল্ডিং কোডের বাইরে কোনো ভবন রাজধানীতে নির্মাণ করা যাবে না। রাজউক এলাকায় কোন এলাকার মাটির ধারণক্ষমতা কেমন তা নির্ণয় করে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) সঙ্গে সংযুক্ত করে দেবেন। যেন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে এবং মাটির ক্ষমতা অনুযায়ী তারা ভবন নির্মাণ করতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজউক এলাকায় যেসব মার্কেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভবন ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। যেগুলো অতি ঝুঁকিপূর্ণ, মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের অনুমতি নিয়ে সেগুলো অবশ্যই ভেঙে ফেলতে হবে।