প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৪:৩০ পিএম
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আদালতের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা। প্রবা ফটো
ইংরেজিতে রায় দিলে অনেক বিচারপ্রার্থী সেটি ভালোভাবে বোঝেন না। ফলে তাদের বিচারপ্রত্যাশা পূরণ হয় না। উচ্চ আদালতে ইংরেজিতে রায় লেখার কারণে বিচারপ্রার্থীদের নানান দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে মত দিয়েছেন বিচারকসহ বিশিষ্টজনেরা। তবে চাইলে রাতারাতি এটি বদলানোও সম্ভব বলে মনে করেন অনেকেই।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ‘আদালতের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. আবদুল মতিন বলেন, ‘চাইলে রাতারাতিই আদালতের সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন সম্ভব। এটা জনগণকে ভয়াবহ ভাবেই চাইতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।’
শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘ইংরেজি ভাষার বাস্তবতাকেও মাথায় রাখতে হবে। আর আদালতের ভাষা কতটুকু সহজবোধ্য করা যায় সেটাও ভেবে দেখার বিষয়।’
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫১ বছরে বাংলা বিশ্বের ভাষা হয়ে গেছে। কিন্তু রাষ্ট্রের ভাষা হয়ে ওঠেনি।’
বাংলা ভাষার প্রচলনে বিচারকদের প্রণোদনা দেওয়ার পরামর্শ জানিয়ে সিনিয়র জেলা জজ (অব.) ড. মো. শাহজাহান বলেন, ‘বাংলায় বিচার লেখার জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করলে হয়তো বিচারকরা আগ্রহী হবেন।’
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদ ফেরদৌসী। সভায় আরও আলোচনায় অংশ নেয় দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্ল্যানিং এডিটর আসজাদুল কিবরিয়া, কলামিস্ট ও লেখক ফারুক ওয়াসিফ, লেখক ও প্রাবন্ধিক ফিরোজ আহমেদ, কলামিস্ট ও গবেষক রাখাল রাহা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পর আজকে আমরা এ দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছি, এ দায় আমাদের পূর্বপুরুষদের এবং সমকালীনদের। অথচ স্বাধীনতা যুদ্ধের সূতিকারগারই ছিল এই ভাষা আন্দোলন। আমরা দাঁড়িয়েছি, কতটা পারব তা ভবিষ্যতই বলে দেবে।’