প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:২৬ পিএম
সামাজিক সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। প্রবা ফটো
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, পাকিস্তান আমলে শাসক ছিল স্বৈরাচারী, রাষ্ট্র ছিল সাম্প্রদায়িক। কিন্তু মানুষ ছিল অসাম্প্রদায়িক। ধর্ম ছিল যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাস। আমরা পরিচিত হতাম বাঙালি হিসেবে। কিন্তু স্বাধীন দেশে এর বিপরীত হচ্ছে।
বৃহস্পতবিার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সামাজিক সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলনে।
আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রিডম অফ রিলিজিওন অর বিলিফ লিডারশিপ নেটওয়ার্ক (ফোর্ব) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম।
আরও ছিলেন ফোর্ব-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. শাহনাজ করীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-প্রকল্প পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ রফিক-উল ইসলাম, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের পরিচালক (কর্মসূচি) নাছিমা আক্তার জলি।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম যোগ করলেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের আদলে দেশ চালাতে লাগলেন। এরশাদ সাহেব এসে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করলেন এবং এর মাধ্যমে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করলেন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের। এ সরকারের ১৩ বছরেও তাই হয়েছে, যা বিগত দিনগুলোতে হয়ে আসছে। আর এ জন্য দায়ি রাজনীতিবিদরা। বস্তুত নাগরিকদের নাগরিক না ভেবে ধর্ম দিয়ে বিবেচনা করলে সাম্প্রদায়িকতা গেঁড়ে বসবেই।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, উন্নয়নের অপর নাম হলো সম্প্রীতি। সম্প্রীতি যদি না থাকে তাহলে উন্নয়ন হয় না। উন্নয়ন হলেও ঠেকসই হবে না। মূলত তিনভাবে সামাজিক সম্প্রতীতি বিনষ্ট হয়। বিভাজনের রাজনীতি, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং জাতিগত বিভেদ। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা একে অপরকে রক্ষা করলেও এখন নিশ্চিহ্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছি।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ধর্মকে বাদ দিয়ে আমরা কিছু করতে পারি না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা পূজা মণ্ডপে আঘাত আসতে দেখেছি। ৩০টিরও বেশি জেলায় এটি হয়েছে। দুঃখজনক হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে কেও মণ্ডপ রক্ষার্থে এগিয়ে আসেনি।