আদালতে পুলিশের প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:০২ পিএম
বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ। ফাইল ছবি
বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ আত্মহত্যা করেছেন বলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। মামলায় আসামির তালিকায় থাকা ফারদিনের বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন ফারদিনের বাবা কাজী নুরউদ্দিন রানা। আদালতে নারাজি দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ ইয়াসিন শিকদার।
পরিদর্শক ইয়াসিন বলেন, স্পেনে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যাওয়ার বিমান ভাড়া সংগ্রহ করতে পারেননি ফারদিন। ছোট দুই ভাইকে টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জোগাতে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। এমন নানা কারণে হতাশা থেকে ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এসব উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হেয়ছে। সাক্ষী হিসাবে মোট ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ১৬১ ধারার জবানবন্দি নিয়ে খুনের আলামত না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এই প্রতিবেদন আদালতে উঠবে।
গত ৪ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার কোনাপাড়ার বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন ফারদিন। রাতে বুয়েটের হলে থাকবেন এবং পরদিন পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরবেন বলে মাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরদিন পরীক্ষায় তার অনুপস্থিত থাকার খবর জেনে খোঁজাখুজি করে ছেলেকে পাননি বাবা। তার তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে তার লাশ মেলে। ময়নাতদন্ত শেষে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের চিকিৎসক হত্যার আলামত পাওয়ার কথা বলেছিলেন। ১০ নভেম্বর তার বাবা নূরউদ্দিন হত্যা মামলা করেন থানায়। সেখানে আসামি করেন ফারদিনের বান্ধবী বুশরাকে, যার সঙ্গে ফারদিন দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত ছিলেন। তখন পুলিশ বুশরাকে গ্রেপ্তার করে, হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে ফারদিনের মৃত্যুর সঙ্গে বুশরার যোগসাজেস পায়নি।
ফারদিনের আত্মহত্যার আশঙ্কা প্রথম থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন বাবা নূরউদ্দিন। তিনি গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আমি আদালতে নারাজি দেব।’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বুশরা কিছুদিন কারাগারে থাকার পর গত ১০ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পান। আদালত গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিবেদন গৃহণ করলে এই হত্যা মামলার পরিসমাপ্তি ঘটবে। ফারদিনের বাবার নারাজি আবেদন আদালত গ্রহণ করে পুনরায় তদন্তের আদেশ দিতে পারেন।