× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

১০ টাকায় গরুর মাংস, ২৫ টাকায় ইলিশ

ফরহাদুর রহমান

প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৫৯ পিএম

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:২০ পিএম

রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় জুয়েল মিয়ার এই দোকানে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে নিম্নআয়ের মানুষ খুবই অল্প টাকায় মাছ-মাংস কেনার সুযোগ পায়। প্রবা ফটো

রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় জুয়েল মিয়ার এই দোকানে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে নিম্নআয়ের মানুষ খুবই অল্প টাকায় মাছ-মাংস কেনার সুযোগ পায়। প্রবা ফটো

রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকা। এখানে রয়েছে ‘পাটোয়ারী স্টোর’ নামের ব্যতিক্রমী এক মুদি দোকান। সেখানে একজন ক্রেতা তার প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রব্য কিনতে পারেন। সেটা হোক ১, ৫ কিংবা ১০০ টাকার। 

দোকানজুড়ে সাজানো নানা পণ্যের পসরা। টুলের ওপর সাজানো ৫ টাকার সয়াবিন তেল, ৫ টাকার ডাল, ২ টাকার কাঁচা মরিচ, ১০ টাকার মধুসহ বিভিন্ন পণ্যের প্যাকেট। অল্প অল্প করে মাছ-মাংসও প্যাকেটজাত করে রেখেছেন দোকানি জুয়েল মিয়া।  সেখানে আছে ১০ টাকা, ৩০ টাকা, ৪০ টাকার গরুর মাংস, ২৫ টাকার ইলিশ মাছ, ৯ টাকার তেলাপিয়া কিংবা ৪০ টাকার রুই মাছের প্যাকেট। অর্থাৎ, একজন ক্রেতা যতটুকু পণ্য নিতে চান, তার দোকান থেকে ততটুকুই নিতে পারেন। 

এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা কীভাবে মাথায় এলো? এমন প্রশ্নের উত্তরে জুয়েল মিয়া বলেন, ‘বহুদিন আমার ক্রেতাদের দেখেছি, বাজারে গিয়ে ২৫০ গ্রাম মাংস চেয়ে ফেরত এসেছেন। আমার দোকানে এসে তারা ডিম চেয়েছেন। তখন আমার খুব খারাপ লেগেছে। তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর ইচ্ছা থেকেই আমি এমন উদ্যোগ শুরু করেছি।’ 

প্রয়োজনের বাইরে যাতে ক্রেতাদের পণ্য কিনতে না হয়, সেটিও মাথায় রেখেছেন জুয়েল। তিনি বলেন, ‘অনেক ক্রেতা আছেন যাদের প্রয়োজন ৫ টাকার মরিচ কিংবা ১০ টাকার আলু। কিন্তু বাজারে গিয়ে তারা নির্দিষ্ট পরিমাণের কম কিনতে পারেন না। ফলে বাড়তি অংশ নষ্ট হয়। এটা আমার পছন্দ নয়।’ 

বিভিন্ন দামে প্যাকেট করে রাখা হয়েছে পণ্যগুলো

জুয়েল মিয়া তার দোকানে অনেক প্যাকেটজাত পণ্যও খুলে পরিমাপ করে বিক্রি করেন। এর মধ্যে কোমল পানীয়ও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা দোকানে এসে পানীয় খেতে চায়। বর্তমান বাজারে ২০ থেকে ২৫ টাকার নিচে এসব পণ্য নেই। তাদের মা-বাবা হয়তো শিশুদের ৫ কিংবা ১০ টাকা দেয়। আমি তাদের জন্য বোতল থেকে পরিমাপ মতো পানীয় বিক্রি করে থাকি। লাভ কম হলেও তাদের শখ পূরণ করতে পারছি। এতেই আমার শান্তি।’ 

তার এমন উদ্যোগে খুশি স্থানীয়রা। আহসান আলী নামের একজন বললেন, ‘বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্য অনেক বেশি। নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে অনেক সময় এক কেজি গরুর মাংস কিংবা একটা আস্ত ইলিশ মাছ কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। তাদের কথা মাথায় রেখে জুয়েল যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যিই অসাধারণ।’ 

ফাতেমা আক্তার নামের একজন গৃহকর্মী বলেন, ‘আমার হাতে সব সময় বেশি টাকা থাকে না। কিন্তু পরিবারের ছোটবড় সবার নানা প্রয়োজন মেটাতে হয়। আমার জন্য এই দোকান অনেক বেশি উপকারী। এখানে কম কম করে প্রয়োজনমতো অনেক পণ্য নিতে পারি।’ 

জুয়েল মিয়া ২০০৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া অবস্থাতেই জড়িত হয়েছেন ব্যবসার সঙ্গে। আগে রাজধানীর শাহজাদপুরে বাবার দোকানের দেখাশোনা করতেন। এখন দক্ষিণখানের ফায়দাবাদে ট্রান্সমিটার মোড়ে মসজিদের পাশের গলিতে নিজেই দোকান দিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা