প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৩৪ পিএম
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:৫৩ পিএম
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার বিডিএসকে গ্রুপের সদস্যরা।
‘ব্রেভ ডেঞ্জার স্ট্রং কিং বা বিডিএসকে’ গ্রুপের প্রধান ‘হিটার’ হৃদয়সহ তার ৮ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যে রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বেড়িবাঁধ, সদরঘাট ও ফরিদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, দুই বছর ধরে ‘বিডিএসকে’ গ্রুপ রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর, বেড়িবাঁধ ও ঢাকা উদ্যান এলাকায় আধিপত্যসহ চুরি ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। গ্রুপের প্রধান ২২ বছর বয়সী শ্রীনাথ মণ্ডল ওরফে হৃদয় ওরফে হিটার হৃদয়। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য।
বিডিএসকে গ্রুপের প্রধান হৃদয় স্থানীয় একটি স্কুল থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। সন্ত্রাসী এই গ্রুপ পরিচালনার পাশাপাশি লেগুনার হেলপার হিসেবে কাজ করতেন হৃদয়। মূলত, এই গ্রুপটি টাকার বিনিময়ে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
হৃদয় ছাড়া গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন, বিডিএসকে গ্রুপের সমন্বয়ক রবিন ইসলাম ওরফে এসএমসি রবিন, রাসেল ওরফে কালো রাসেল, আলামিন ওরফে ডিশ আলামিন, লোমান, আশিক ওরফে হিরো আশিক, জোবায়ের ইসলাম ওরফে চিকনা জোবায়ের এবং সুমন ওরফে বাইট্টা সুমন। তাদের সবার বয়স ১৮ থেকে ২২ বছরের মধ্যে।
অভিযানে তাদের মোহাম্মদপুর আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি চাপাতি, একটি রামদা, একটি চাইনিজ কুড়াল, চারটি চাকু (বড় ও ছোট), দুটি হাঁসুয়া, একটি কাঁচি এবং একটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়।
আল মঈন বলেন, গত ৭ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে রাজধানীর আদাবর থানার তিন রাস্তার মোড় এলাকায় এক ব্যক্তিকে জখম করে তার কাছে থাকা মোবাইল ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। পরে ভুক্তভোগীকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুদিন একই এলাকা থেকে কলেজ শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও ছিনতাইকারীরা মোটা অঙ্কের অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসব ঘটনার তদন্তে নেমে র্যাব বিভিন্ন সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে।
সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে র্যাব ‘বিডিএসকে’ গ্রুপের প্রধান হৃদয় ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো ঘটে বলে জানতে পারে। তারপরই গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে র্যাব।
র্যাব জানায়, গ্রুপটিকে স্থানীয় অনেকেই ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে ব্যবহার করত বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।