× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিভাজন ঠেকাতে সাংস্কৃতিক ঐক্যের ডাক

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:১৮ পিএম

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘সাংস্কৃতিক জাগরণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ চাই’ শিরোনামে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সমাবেশ।  প্রবা ফটো

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘সাংস্কৃতিক জাগরণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ চাই’ শিরোনামে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সমাবেশ। প্রবা ফটো

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক-অর্থনৈতিক সংকটে দেশে এক ধরনের সামাজিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। এটি ঠেকাতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক স্ফূরণ ঘটাতে হবে বলে মত দিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রত্যাখানের জন্য তৃণমূলের সংস্কৃতিকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ‘সাংস্কৃতিক জাগরণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ চাই’ শিরোনামে এক সমাবেশ থেকে তারা এই আহ্বান জানিয়েছেন। 

শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক কামরুল হাসান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডা. নিমচন্দ্র ভৌমিক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি রেখা চৌধুরী, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান, বাংলদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মানজার চৌধুরী সুইট, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিনু হক, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী। সমাবেশে বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ গিয়াসের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ। 

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘এখন সমাজ বিভাজিত হয়ে গেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আমাদের পছন্দের দল ক্ষমতায় আছে, এটা বলছি। কিন্তু সমাজ কি পুরোপুরি আমাদের হাতে আছে? সম্প্রীতির বাংলাদেশ যে নেই, এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। ধর্মভিত্তিক সংস্কৃতির জাগরণ ঘটেছে, কারণ তাদের জন্য নানা রকম সহযোগিতা সমাজে ও রাষ্ট্রে রয়েছে। তাদের আধিপত্যের মুখে মুক্তিযুদ্ধ ও মানবতার সংস্কৃতির বিকাশ প্রতিনিয়ত নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সাংস্কৃতিক জাগরণ নেই, অর্থাৎ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড খুব ম্রিয়মান। জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে যে ভাষাভিত্তিক, সাংস্কৃতিক চর্চা দরকার তা একেবারে কমে এসেছে। এভাবে সমাজ বিভাজিত রেখে কিন্তু আপনি ঐক্য করতে পারবেন না।’ 

গণমানুষের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করতে প্রয়োজনীয় সাংস্কৃতিক কাঠামো, জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি বদলের কথা বলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতিচর্চা নানা সময়ে আইনের মারপ্যাঁচে, কখনও সামাজিক-রাজনৈতিক বেড়াজালে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংস্কৃতি অঙ্গণে কখনও কখনও আশার ঝলকানি দেখা গেলেও সেটি ক্ষণস্থায়ী। সমাজে যে বিভাজন তা কী শুধু ধর্মের অপব্যাখ্যার কারণে হচ্ছে? আজকে পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী কী পদদলিত নয়? সমাজে কি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন বন্ধ হয়েছে?’ 

সরকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি ঘটাতে দেশে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করলেও তাতে লোকবল সংকটের কথা তুলে ধরেন গোলাম কুদ্দুছ। তিনি বলেন, ‘আজকে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে গান, আবৃত্তি, নাচ শেখানোর জন্য স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। অনেক জায়গায় স্থায়ী কালচারাল অফিসার নেই।’  

তিনি বলেন, খুব শিগগিরই ৬৪ জেলায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কমিটিগুলোকে একত্রিত করে সাংস্কৃতিক আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। 

সম্প্রতি পাঠ্যপুস্তকের বিভিন্ন রচনা নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে সেটিরও সমালোচনা করেন বক্তারা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি রেখা চৌধুরী বলেন, পাঠ্যপুস্তকের রচনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমাজের গুণী ব্যক্তিদের অপমান করা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা