প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:৩০ পিএম
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:২৬ পিএম
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কবর জিয়ারত। প্রবা ফটো
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ও গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি পিতা হত্যার সুষ্ঠু বিচার আশা করেন না। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে কিবরিয়ার ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কবর জিয়ারত শেষে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।
রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘দুই বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দুই বছর বিএনপি সরকার ও ১৪ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থেকেও এই হত্যার বিচার হয়নি। এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, তারা মিথ্যা তদন্ত ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আসল খুনিদের আড়াল করতে চেষ্টা করেছেন। তাই আমি মনে করি, শেখ হাসিনা যে শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেখানে আইনের শাসন ও সুষ্ঠু বিচার আশা করা কঠিন।’
মানববন্ধনে গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, ‘শাহ এ এম এস কিবরিয়ার মতো একজন গুণী মানুষকে হত্যা করা হলো অথচ হত্যার বিচার করছে না এই আওয়ামী সরকার। তিনি এই আওয়ামী লীগকে খাদের কিনারা থেকে টেনে এনে ক্ষমতায় বসতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। বিচারপ্রক্রিয়া বারবার পেছানোর কারণে আমাদের মনে একটি সন্দেহ দেখা দিয়েছে যে শাহ এ এম এস কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী জড়িত কি না।’
এ সময় আরও বক্তব্য দেন গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রহমান, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মঞ্জুর মুর্শেদ মামুন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুত্রবধূ সিমি কিবরিয়া ও চাচাত ভাই শাহ আজাদ আলী সুমন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব জিলু খান, সহকারী সদস্য সচিব শেখ খায়রুল কবির, যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, গাজীপুর জেলা গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মোবারক হোসেনসহ আরও অনেকে।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ওই হামলায় তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী নিহত হন। আহত হন ৭০ জন।
ঘটনার পরদিন হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। পরে মামলা দুটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৫ সালে ১৮ মার্চ শহীদ জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাইউমসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এ অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করে বাদীপক্ষ। পরে মামলার পুনঃতদন্তের পর ২০১১ সালের ২০ জুন আসামির সংখ্যা ১৬ জন বাড়িয়ে ২৬ জনের নামে দ্বিতীয় দফা অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এ নিয়েও আপত্তি জানায় নিহত কিবরিয়ার পরিবার।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে নতুন করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। তাদের নামে বোমা হামলা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এখনও মামলা চলমান।