প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২২ ২০:১৪ পিএম
আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২২ ১১:০৪ এএম
প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের দুই নারী সদস্যসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) ভোরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও দক্ষিণখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ কাজে ব্যবহৃত ১৪টি মোবাইল ফোন ও দুটি ল্যাপটপ উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন--মো. আল মাহমুদ ওরফে মামুন, মো. আকরাম হোসেন ওরফে আকিব, মাস্তুরা আক্তার প্রিয়া, তানিয়া আক্তার, মো. রুবেল, মো. মহসীন ও মো. ইমরান।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘এক ব্যবসায়ীর অভিযোগে চক্রটিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মাস্তুরা আক্তার প্রিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল তার। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১০ আগস্ট ওই ব্যবসায়ীকে কৌশলে প্রিয়া অভিজাত আবাসিক এলাকায় তার বান্ধবীর বাসায় নিয়ে যায়। ওই বাসায় ঢোকার পরপরই প্রিয়া ও তার সহযোগীরা ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে।’
এ ছাড়া মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা চাাঁদা দাবি করে। ওই ব্যবসায়ী লোকলজ্জার ভয়ে বিকাশের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ১ লাখ টাকা ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা দেন। এরপর এ যাত্রায় মুক্তি মেলে তার। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহ পরে পুনরায় ওই ব্যবসায়ীকে ফোন করে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করে মামুন। টাকা না দিলে ধারণ করা অশ্লীল ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় প্রতারকরা। পরে তিনি র্যাব-১-এ লিখিত অভিযোগ করেন।
গ্রেপ্তার দুই নারী সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার আল মাহমুদের স্ত্রী তানিয়া আক্তার। তারা দুজন প্রতারণায় জড়িত। এ ছাড়া গ্রেপ্তার প্রিয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে আসছিল চক্রটি।
এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে অপরিচিত কারও ডাকে নির্জন জায়গায় না যাওয়ার পরামর্শ দেন কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।
প্রবা/আরএম/এমজে