প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ২৩:০০ পিএম
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ২৩:৫৮ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে সংহতি সমাবেশ। প্রবা ফটো
বিশ্বের ক্রমবর্ধমান সম্পদ ও আয়বৈষম্য দূর করতে সম্পদশালীদের কাছ থেকে কর আদায় নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান মানবাধিকারকর্মীরা।
সাউথ এশিয়া অ্যালায়েন্স ফর পভার্টি ইরাডিকেশন (স্যাপি), নারী প্রগতি সংঘ, ইনসিডিন বাংলাদেশ, জনউদ্যোগ ও ফাইট ইনইকুয়ালিটি অ্যালায়েন্স ইন সাউথ এশিয়ার যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশ করা হয়।
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের (বিএনপিএস) নির্বাহী পরিচালক ও স্যাপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর এম এম আকাশ, জনউদ্যোগের আহ্বায়ক ডা. মুশতাক হোসেন, শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন ও রুহুল আমিন, জনউদ্যোগের সমন্বয়কারী তারিক হোসেন মিঠুল, ইনসিডিন বাংলাদেশের অপারেশন চিফ মুশফিকুর রহমান সাব্বির প্রমুখ।
রোকেয়া কবীর বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও লিঙ্গ নির্বিশেষে বৈষম্যের শিকার। বাংলাদেশে শ্রমিক ও নারীরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত। এটা মানবাধিকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও নারী আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী। ওর্য়াল্ড ইকোনোমিক ফোরামের মত ফোরামগুলো ধনীদেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। আমরা এ ধরণের অর্থনৈতিক আলোচনাকে প্রত্যাখ্যান করি।’
অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘বিশ্ব জনসংখ্যার যে অর্ধেক চরম দরিদ্র, তাদের নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের মোট সম্পদের মাত্র ২ শতাংশ। অন্যদিকে, বিশ্ব জনসংখ্যার যে ১০ শতাংশ মানুষ সবচেয়ে ধনী তাদের দখলে বিশ্বের ৭৬ শতাংশ সম্পদ। কোভিড-১৯ অতিমারীকালে এটি সবচাইতে বেশি ঘটেছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বের বিলিওনিয়ারদের মোট সম্পদ এখন বৈশ্বিক জিডিপির ১৩ দশমিক ৯ শতাংশের সমান। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ অতিমারীকালে নতুন করে ৬০৭ জন বিলিওনিয়ারে পরিণত হয়েছে যার মধ্যে ভারতেরই ৫৫ জন। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৬৪ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ডলার সংকট তৈরি হচ্ছে। এই ভারসাম্যহীনতার কারণে শীর্ষ ১ শতাংশের হাতে সকল সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে। এই ভারসাম্যহীনতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে ধনীদের সম্পদের ওপর কর আরোপ করতে হবে।’
জনউদ্যোগের সমন্বয়কারী তারিক হোসেন বলেন, ‘যে সিস্টেম ক্ষমতাশীলদের শক্তিশালী করে আর জনগণের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে আমরা সেই সিস্টেমের বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি। আমরা একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল চাই।’