প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:০৩ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন এরিক এরশাদ ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ। ছবি: প্রবা
এরিক এরশাদ ট্রাস্ট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্থিরতা ও স্থবিরতার পেছনে বিদিশা সিদ্দিক ও তার আশির্বাদপুষ্ট লোকজনকে দায়ী করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ তার মা বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে থাকতে রাজি নন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন মামুনুর রশীদ।
তার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এরশাদ ট্রাস্টের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী রুবায়েত হাসান, শামসুজ্জামান মুকুল ও ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর।
কাজী মামুনুর রশীদ সংবাদ সম্মেলনে এরিক এরশাদের সঙ্গে তিনটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ড উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পার্কে বিদিশার প্রবেশের সময় এরিকের বয়স ছিলো ১৮ বছর। বর্তমানে তার বয়স ২২ বছর। এরিক শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও সে মানসিকভাবে পরিপূর্ণ সুস্থ ও সামর্থ্যবান মানুষ। সে কারণে এখন সে আর বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে থাকতে রাজি নন।’
বিদিশা সিদ্দিক অবৈধভাবে প্রেসিডেন্ট পার্কে ঢুকে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কাজী মামুনুর রশীদ।
তিনি দাবি করেন, ‘এরিক এরশাদ তার মা বিদিশা সিদ্দিকের কাছে কোনোভাবেই নিরাপদ না। তার কাছে এরিক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিদিশা সিদ্দিক ট্রাস্টের অর্থের লোভ-লালসা থেকে অবৈধভাবে এখনও প্রেসিডেন্ট পার্কে রয়ে গেছেন।’
অডিও রেকর্ডগুলো এরিকেরই কী না তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অডিও রেকর্ডে এরিককে বলতে শোনা যায়, ‘বিদিশা আমার জন্য গজব। তার হাত থেকে আমাকে রক্ষা করেন। তারা (বিদিশার লোকজন) হাবিব, নাফিসরা খালি ডিস্টার্ব করে। তারা আমাকে অসুস্থ প্রমাণ করতে চায়। তিন বছর অনেক সহ্য করেছি। তার (বিদিশা সিদ্দিক) সঙ্গে আমি একদিনও থাকবো না। আমি আত্মহত্যা করব।’
কাজী মামুনুর রশীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদিশা সিদ্দিককে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলে এরিক এরশাদের দেখভালের জন্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা যাওয়ার আগে একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। এই ট্রাস্টে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা এফডিআর করা আছে। এ থেকে প্রতি মাসে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। এছাড়া ট্রাস্টের অধীনে গুলশানে ২ হাজার স্কয়ার বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে। এ থেকে মাসে ৪৫ হাজার টাকা আয় হয়। বনানীতে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এখান থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। গুলশানে একটি দোকান রয়েছে এখান থেকে মাসে ২ লাখ টাকা আয় হয়। রংপুরে একটি কোল্ডস্টোরেজ রয়েছে। এই কোল্ডস্টোরেজের সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে ৩০ লাখ টাকা আয় হয়ে থাকে। এ সব টাকা ট্রাস্টের মাধ্যমে এরিক সুবিধাভোগী।
গত বছরের অক্টোবর থেকে এরিক এরশাদ ট্রাস্ট নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় বিদিশা সিদ্দিক ও কাজী মামুনুর রশীদের মধ্যে।
গত অক্টোবরে তাদের দুজনকে ট্রাস্টি বোর্ড থেকে অপসারণ করে অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. তানভীর ইকবালকে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করা হয়।
ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ এনে কাজী মামুনুর রশীদকে বরখাস্ত করেছিলেন এরিক এরশাদ। এরিক অভিযোগ করেছিলেন, এরশাদ ট্রাস্টের সদস্যরা তার ভরণপোষণের জন্য কোনো টাকা দিচ্ছেন না। পরে মা বিদিশা সিদ্দিককে প্রেসিডেন্ট পার্ক থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টায় এরিক গুলশান থানায় জিডি করেন।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, ‘অডিট ফার্ম গঠন করে ট্রাস্টের সমুদয় আয় ব্যয়ের হিসাব আমরা করছি। সেখানেও নানাভাবে বাধা দিতে চান বিদিশা সিদ্দিক। আমরা হলফ করে বলছি, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের করে যাওয়া ট্রাস্ট থেকে আমরা এক টাকাও তুলিনি। ট্রাস্টের লভ্যাংশের টাকা এরিকের ভরণপোষণের জন্য ব্যয় করা হয়।’
এরিক এরশাদকে প্রশাসনের সহযোগিতায় মুক্ত করা গেলে তাকে নিয়ে ফের সংবাদ সম্মেলনে আসার কথা বলেন কাজী মামুনুর রশীদ।