প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:২৫ পিএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:৫৩ পিএম
সংগৃহীত।
রাজধানীর গুলশানের একটি বাসায় স্পা সেন্টারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অভিযানের সময় ভয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে ফারজানা নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরেক নারী রিয়া আক্তার আহত হয়েছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আহত নারীকে ঢামেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এ ঘটনায় সাত নারী ও
তিন যুবককে আটক করেছে গুলশান থানা পুলিশ। বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায়
অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে। ডিএনসিসির অভিযানে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন)
সদসরা উপস্থিত ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে,
বুধবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ওই আবাসিক ভবনে স্পা সেন্টারের
নামে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। এরপর ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল
হাসানের নেতৃত্বে এপিবিএনের সহযোগিতায় গুলশান-২ এর ৪৭ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাসায়
অভিযান চালানো হয়। ওই বাসাটির পাঁচতলায় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রবেশ করার পর ভয়ে
ছাদে পালিয়ে থাকা দুই নারী নিচে লাফ দেন। এ সময় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ফারজানাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত রিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
১৯ বছর বয়সি নিহত
ফারজানার গ্রামের বাড়ি খুলনার বটিয়াঘাটার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। তিনি খিলক্ষেতের
বটতলা এলাকায় স্বামীকে নিয়ে থাকতেন।
নিহত ফারজানার
স্বামী জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমার স্ত্রী একটি বিউটি পার্লারে কাজ করত।
বুধবার চাকরিতে প্রথম গিয়েছিল। পরে আমি জানতে পারি সিটি করপোরেশনের অভিযান চলছিল।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি দেখে আমার স্ত্রীসহ অনেক
নারী ভবন থেকে ভয়ে লাফিয়ে পড়ে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের দুজনকে ঢাকা মেডিকেলে
নিয়ে আসলে একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। আরেকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষেয় আমাকে
খবর দিলে আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে স্ত্রীকে মৃত অবস্থায়
পাই।’
গুলশান থানার
পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘খবর
পেয়ে আমরা আহত দুই নারীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে
চিকিৎসকরা ফারজানাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রিয়াকে সেখানে ভর্তি করানো হয়েছে। এর
বাইরে আমি কিছু বলতে পারব না।’
গুলশান থানা থেকে জানানো
হয়েছে, ওই স্পা সেন্টার থেকে সাত নারী ও তিন যুবককে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে
করিম, মুশফিকুর রহমান, শান্তামনি, পাপিয়া, তামান্না ও তানিয়া জামানের নাম জানা
গেছে।
অভিযানের বিষয়ে
জানতে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানকে একাধিকবার ফোন করলেও
তিনি ফোন ধরেননি।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী বলেন, ‘গুলশান-২-এর ৪৭ নম্বর রোডের একটি ভবনে
অভিযানে যায় ডিএনসিসির একজন ম্যাজিস্ট্রেট। তখন ওই দুই তরুণী ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন।’
তিনি বলেন, ‘ভবনের চারতলায় স্পা কাম বিউটি পার্লার পরিচালনা করা হতো। সেখানেই
কাজ করতেন ওই দুই তরুণী। তবে ডিএনসিসি সেখানে কী ধরনের অভিযানে গিয়েছিল, সেটি আমরা
জানি না।’
এ বিষয়ে অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, ‘নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে কোনো আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে অভিযান চলছিল। একপর্যায়ে ওই ভবনে অভিযান পরিচালনা শুরুর আগেই দুই নারী ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।’