প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:২২ পিএম
দেশে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চার দশক ধরে কাজ করা সংস্থা বাংলাদেশ উইমেন্স হেলথ কোয়ালিশন বা বিডব্লিউএইচসি বলছে, দেশে এখনও নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ভীষণভাবে অবহেলিত।
সংস্থাটির চেয়ারপারসন নাসিমুন আরা হক বলেন, ‘নারীর স্বাস্থ্যসেবা আমাদের দেশে ভীষণভাবে অবহেলিত। অথচ এদিকেই বেশি নজর দেওয়া উচিত ছিল। নারীর অবদান ও প্রয়োজনীয়তাকে সব সময় কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানে নারীদের প্রাথমিক সচেতনতা তৈরি ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কাজ করে আমাদের সংগঠন। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে নারীস্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ উইমেন্স হেলথ কোয়ালিশন আয়োজিত ‘নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নে বিডব্লিউএইচসির গৌরবময় চার দশক (১৯৮০-২০২০)’ শিরোনামে সংবাদ সম্মেলন করে বিডব্লিউএইচসি।
করোনাকালীন ২০২০ সালে ৪০ বছরে পা দেয় সংগঠনটি। মহামারির কারণে চার দশক উদযাপন করা হয়নি। তারই অংশ হিসেবে ৪০ বছরের কাজের পর্যবেক্ষণ সবার সামনে তুলে ধরেন সংগঠনটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোস্তফা শরীফ হেলাল।
তিনি জানান, সংগঠনটি এখন পর্যন্ত ৭ কোটি ৮৮ লাখ ২২ হাজার ৩৫৯ জন নারীকে সেবা ও শিক্ষা দিয়েছে।
১৯৮৬ সালে সংগঠনটির যাত্রা হয়। প্রথমেই সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মাসিক নিয়মিতকরণ (এমআর) সেবা দেওয়া হয়। অনিরাপদ এমআরের কারণে মায়ের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া এইডস প্রতিরোধে যৌনকর্মীদের জন্যও স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয় বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত ৫ কোটি ২১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯ জন গ্রহীতার মধ্যে এমআর ও তার পরবর্তী চিকিৎসা নিয়েছেন ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৪ জন। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সেবা গ্রহণ করেছেন ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৫ জন নারী ও পুরুষ। প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৯৮৭ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকার টিকা নিয়েছেন ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৩৬৯ জন নারী।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নাসিমুন আরা হক আরও বলেন, ‘সন্তান জন্ম দিতে প্রতি ১ লাখে ১৬৫ জন মায়ের মৃত্যু হয়। আগের তুলনায় হার কমলেও মৃত্যুশূন্যে পৌঁছায়নি। সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীর ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না এখনও। গর্ভবতী মাকে যেন হাসপাতালে নেওয়া পর্যন্ত সব সুবিধা দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।’