বিকাশের দোকানে ছিনতাই
ঢাকার আদাবরে বিকাশের দোকানে ছিনতাইয়ের ঘটনায় কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাইদসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকার আদাবরের শেখের টেক-৭ এলাকায় বিকাশের দোকানে ছিনতাই এবং পুলিশকে ধারালো চাপাতির আঘাতে আহত করা ছিনতাইকারী চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই অভিযোনে কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাইদসহ ৬ জন ছিনতাইকারী’কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২।
বাকি গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে এক্সেল বাবু, রাশেদ খন্দকার, লিটন, তৌসিফ ও তরিকুল ইসলাম।
কব্জিকাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও বর্তমান সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদের গুরু এক্সেল বাবু। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলো।
কাওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
তিনি বলেন, ঢাকার আদাবর থানাধীন শেখের টেক-৭ এলাকায় মঙ্গলবার সকালের দিকে একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে বিকাশের এজেন্টকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তার কাছে থাকা তিন লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর আদাবর থানা পুলিশ ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালাতে গেলে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে, বলেন তিনি।
অতিরিক্ত ডিআইজি দাবি করেন, ছিনতাইকারীদের চাপাতির আঘাতে আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ গুরুতর আহত হয়।
পরবর্তীতে ছিনকাইকারী চক্রের মুলহোতাসহ অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারে র্যাব-২ এর গোয়েন্দা টিম ঘটনাস্থল এবং আশপাশ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে, বলেন তিনি।
নয়মুল হাসান বলেন, এ সময় কমান্ড আবু সাইদ, রাশেদ খন্দকার, লিটন, তৌসিফ ও তরিকুল ইসলামসহ ৬ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব কর্মকর্তা নয়মুল হাসান বলেন, আসামিদের পিসিপিআর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সে একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে র্যাব-২ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
এ বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, কব্জিকাটা গ্রুপের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী এক্সেল বাবুর সম্পৃক্ততা সে নিজেই স্বীকার করেছে। এক্সেল বাবু হচ্ছে কব্জি কাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও আবু সাঈদের গুরু।
এক্সেল বাবুর মতো পৃষ্ঠপোষকদের আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত আটক করতে পারব না, ততক্ষণ এই গ্যাংগুলো অ্যাকটিভ থাকবে। এবং এ কারণে আমরা একটু অ্যাগ্রেসিভ পুলিশিং করতে চাই বলেও উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।
এই ধরনের ছিনতাইকারী ও অপরাধ কন্ট্রোল করা এবং দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার বিষয় র্যাব কি ধরনের পদক্ষেপ নিবে জানতে চান সাংবাদিকরা।
এর জবাবে রামিশা হত্যা মামলার দ্রততম সময়ে বিচার দেশে একটি উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করেন র্যাবের এই কর্মকর্তা।
এরপর তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে যদি কোনো ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ছিনতাইকারী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা যেত তাহলে জনগণ আরও বেশি নিরাপদ বোধ করত।
তিনি আরও বলেন, আমরা (র্যাব) শুধু আটক, তদন্ত করি। পুরো প্রচেষ্টার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটা অংশ আমরা।
বাকি সিস্টেমটা যারা সংশ্লিষ্ট তারা ভেবে দেখেন তাহলে আমার মনে হয়, এতে করে উপকৃত হব বলেও জানান তিনি।