× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফুটওভার ব্রিজ আছে, নেই পদচারী

রাহাত হুসাইন

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ ১১:২০ এএম

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬ ১৩:৩৭ পিএম

ফুটওভার থাকার সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ফুটওভার থাকার সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

একপাশে হর্নের তীব্র শব্দ, অন্যপাশে দ্রুতগতির যানবাহন। রাজধানীর শাহবাগের পথে ছুটতে থাকা বাস-গাড়ির মধ্য দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন মো. আসলাম। সামান্য অসতর্কতায় মুহূর্তেই ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। অথচ তার মাথার ওপরই রয়েছে নিরাপদ পারাপারের অবকাঠামোÑ ফুটওভার ব্রিজ।

সেটি ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার বিষয়ে পদচারী মো. আসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সবাই নিচ দিয়ে পার হচ্ছে, তাই আমিও সেভাবেই পার হলাম।’ ‘যদি কোনো গাড়ি ধাক্কা দিত?’Ñএমন প্রশ্নের জবাবে আমতা-আমতা করে তিনি বলেন, ‘আসলে একটু তাড়া ছিল, তাই দ্রুত পার হওয়ার জন্য এই ঝুঁকি নিয়েছি।’

আসলামের মতো প্রতিদিন হাজারো পথচারী এভাবেই চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড়ে, আবার কখনও সড়ক বিভাজক টপকে রাস্তা পার হন। দৃশ্যটি যেন সার্কাসের কোনো ঝুঁকিপূর্ণ প্রদর্শনী। সময় বাঁচানো, অলসতা কিংবা অভ্যাসÑ যে কারণই হোক, এই বিপজ্জনক প্রবণতা এখন ঢাকার নগরজীবনের নিত্যদিনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ সরকারি তথ্য বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে বর্তমানে ১০২টি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় রয়েছে ৩২টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় ৭০টি। এছাড়া উত্তর সিটিতে আরও সাতটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণাধীন। এর বাইরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নিয়ন্ত্রণে উত্তর সিটির আওতাভুক্ত এলাকায় আরও পাঁচটি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে।

এসব ফুটওভার ব্রিজের অনেকগুলোই প্রয়োজনভিত্তিক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার পরিবর্তে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে নির্মিত হয়েছে। ফলে উপযুক্ত স্থানে নির্মাণ না হওয়ায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতে অনেক ব্রিজ ধীরে ধীরে কার্যকারিতা হারিয়েছে।

এই বাস্তবতার চিত্র বুঝতে দুই সিটির অন্তত ৩০টি ফুটওভার ব্রিজ সরেজমিন ঘুরে দেখেছে প্রতিদিনের বাংলাদেশ। এতে দেখা গেছে, নিরাপদ পারাপারের জন্য নির্মিত কোটি কোটি টাকার এসব অবকাঠামো এখন আর মানুষের ভরসার জায়গা নয়; বরং অবহেলা, দখল ও অকার্যকারিতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। অনেক ব্রিজ জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী; কিছু অপরিচ্ছন্ন, আবার কিছু কাঠামোগতভাবে ভালো থাকলেও ব্যবহারকারী নেই বললেই চলে। যেগুলো তুলনামূলক বেশি ব্যবহার হয়, সেগুলোর বড় অংশ দখল করে বসেছে হকাররা।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি ফুটওভার ব্রিজের অবস্থা এতই নাজুক যে, দীর্ঘদিন রঙ না করায় লোহার কাঠামোতে মরিচা ধরেছে, কোথাও স্টিল ক্ষয়ে গেছে। বিশেষ করে হাইকোর্ট মাজার থেকে বঙ্গবাজারগামী সড়কের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজটি এখন ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রিজটির স্টিলের পাটাতনে ভাঙন তৈরি হয়ে বড় গর্ত হয়েছে, তবু মেরামতের উদ্যোগ নেই। একই অবস্থা খিলক্ষেতের লা মেরিডিয়ান সংলগ্ন এবং হাটখোলা সড়কের ফুটওভার ব্রিজের।

তবে খিলক্ষেতের লা মেরিডিয়ান সংলগ্ন ব্রিজের পেছনে রয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার গল্প। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় হলেও এই ব্রিজসহ পাঁচটি ফুটওভার ব্রিজের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের হাতে। ডিএনসিসি সূত্র জানায়, লা মেরিডিয়ান সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দ্রুত মেরামতের জন্য চলতি বছরের ৭ মে সওজকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে খিলক্ষেতের স্থানীয় বাসিন্দা ও নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক জাহিদ ইকবাল বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য পথচারী ঝুঁকি নিয়ে এটি ব্যবহার করছেন। এর জীর্ণ কাঠামো, ভাঙাচোরা অংশ এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সংস্কারের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের নাকি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরেরÑ এই ঠেলাঠেলির দায় সাধারণ মানুষ কেন নেবে?’ তিনি দ্রুত ব্রিজটি অপসারণ বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।

তবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঢাকা সড়ক বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া বলেন, ‘এটা নড়বড়ে নয়, ছাদ ফুটো হয়েছে। এটি মেরামত করা হবে। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে।’ এছাড়া ডিএসসিসির আওতাভুক্ত এলাকার মধ্যে শনির আখড়া, কাজলা, রায়েরবাগ ও মাতুয়াইলে সওজের ৪টা ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে।

অন্যদিকে ফার্মগেট, কমলাপুর, খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ড ও কুড়িলের যমুনা ফিউচার পার্ক সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজগুলো তুলনামূলক বেশি ব্যবহার হলেও সেখানে রয়েছে ভিন্ন সংকট। কোথাও সিঁড়ির মুখে দোকান, আবার কোথাও ভাসমান মানুষের অবস্থান।

তথ্য অনুযায়ী, এসব ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের হলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো আলাদা জনবল নেই। ফলে নিয়মিত তদারকি, পরিচ্ছন্নতা ও মেরামত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অথচ এ খাতে বরাদ্দের ঘাটতি নেই। ডিএসসিসির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সাড়ে ৭ কোটি টাকা এবং ডিএনসিসিতে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নিরাপদ ও সহজ পারাপারের জন্য ঢাকায় এস্কেলেটর-সংবলিত ফুটওভার ব্রিজও নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ডিএনসিসি এলাকায় ৯টি ফুটওভার ব্রিজের দুই ইউনিটে মোট ১৮টি এস্কেলেটর ইউনিট রয়েছে। এছাড়া ডিএসসিসির নিউমার্কেট এলাকায় দুই ইউনিটের একটি এস্কেলেটরযুক্ত ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। কাগজে-কলমে আধুনিক এই সুবিধার সমাহার থাকলেও বাস্তবে এর বড় অংশই অকেজো। তবে দক্ষিণ সিটির একটা চালু রয়েছে।

উত্তরার রাজলক্ষ্মী ফুটওভার ব্রিজে ডেসকোর প্রায় ৪০ মিটার সার্ভিস কেবল ও সাব-ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড চুরি হয়ে যাওয়ায় দুটি ইউনিটই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। একইভাবে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের একটি ইউনিট সচল থাকলেও অন্যটির ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও প্লাটফর্ম চুরি হয়েছে। চুরি হাওয়ার বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে ডিএনসিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, এক এস্কেলেটর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানির ব্যবস্থা নিয়েছে।

অন্যদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের ফুটওভার ব্রিজের এস্কেলেটর বর্তমানে বন্ধ। সেখানে আন্ডারপাস নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ব্রিজটি অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বনানী ফুটওভার ব্রিজের দুটি এস্কেলেটরও দীর্ঘদিন অকেজো। আর ফার্মগেট ফুটওভার ব্রিজে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত নতুন এস্কেলেটরও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

তবে সব চিত্রই হতাশার নয়। আবরার ফুটওভার ব্রিজ এবং আফতাবনগরের ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের এস্কেলেটরগুলো সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। এছাড়া ইসিবি চত্বর ও কালশী ফুটওভার ব্রিজের এস্কেলেটরগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি ব্রিগেডের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদিও সেখানে আরেকটি সামাজিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন পথশিশুরা প্রায়ই ‘ইমার্জেন্সি স্টপ বাটন’এ চাপ দিয়ে সচল এস্কেলেটর বন্ধ করে রাখে।

জানতে চাইলে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী-১ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খন্দকার মাহবুব আলম বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা থাকলেও মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এরই মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১০টি ফুটওভার ব্রিজ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অর্থ বরাদ্দসাপেক্ষে সকল ফুটওভার ব্রিজ মেরামত করা হবে।

উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকায় আরও যে ৭টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; সেক্ষেত্রে সমীক্ষা করা হয়েছে কি? Ñএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এরপর বাস্তব চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা করে তা নির্মাণ করা হয়।

ফুটওভার ব্রিজের সংকট ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই সমাধান হবে না। সিটি করপোরেশনের সুনির্দিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণ গাইডলাইন থাকা দরকার। হকারদের অবৈধ দখল রোধে স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে নজরদারি নিশ্চিত করাও জরুরি।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজগুলো সিটি করপোরেশন পাহারা দেবে না। পুরনো হয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরা মেরামত করতে পারি। এগুলো ব্যবহার করে জনগণ, রক্ষণাবেক্ষণ তাদেরই করতে হবে। আমাদের যে ব্রিজগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টহল পুলিশেরও দায়িত্ব রয়েছে, যাতে ফুটওভার ব্রিজকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত না হয়। নতুন ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে ট্রাফিক সার্কেল বিভাগের সমীক্ষা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই এখন বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।’

ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নাগরিক অধিকারভিত্তিক প্লাটফর্ম ‘সেন্টার ফর সিটিজেনস রাইটস’ (সিসিআর)-এর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নোমান সালাম। তিনি বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপারে আমরা সবসময় জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকি। পাশাপাশি এগুলো রক্ষণাবেক্ষণে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদারে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে সিটি করপোরেশনগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই।’

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা