× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাজেটের প্রভাব নেই রাজধানীর বাজারে

নিজামুল হক

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে

বাজারে আপাতত স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও সাধারণ ভোক্তার ব্যয়চাপ আগের মতোই রয়েছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাজারে আপাতত স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও সাধারণ ভোক্তার ব্যয়চাপ আগের মতোই রয়েছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিভিন্ন পণ্যে কর ও শুল্ক কাঠামো সংশোধনের প্রস্তাব থাকলেও তার প্রভাব এখনও খুচরা বাজারে পৌঁছেনি। ফলে বাজারে আপাতত স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও সাধারণ ভোক্তার ব্যয়চাপ আগের মতোই রয়েছে। 

রাজধানীর হাতিরপুল, পলাশী, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও মালিবাগসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার শুক্রবার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কোথাও উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি বা মূল্যহ্রাস হয়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় আছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের মতে, কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিক ব্যয় কমার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।

সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। হাতিরপুল ও পলাশী বাজারে পেঁয়াজ ৪০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা এবং বেগুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। টমেটো ১২০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি ও লাউ প্রতিটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকজাতীয় পণ্যের মধ্যে পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লালশাক ১৫ টাকা আঁটি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

পলাশী বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ঈদের পর থেকে সবজির বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে এবং বেশিরভাগ পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে।

কারওয়ান বাজারেও সবজির বাজারে একই ধরনের স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সেখানে পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, সাদা বেগুন ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং টমেটো ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কুমড়া, ঢেঁড়স, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল ও বরবটির দামও তুলনামূলক কম রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ঈদের পর চাহিদা কিছুটা কমে আসা এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।

বিক্রেতারা মনে করছেন, মৌসুমি সবজির সরবরাহ অব্যাহত থাকলে সামনে দাম আরও কিছুটা কমার সুযোগ রয়েছে। তাদের মতে, বাজেট ঘোষণার পরও এখন পর্যন্ত বাজারে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। 

তবে মাছ ও মাংসের বাজারে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইলিশ মাছ কেজিপ্রতি ২ হাজার ৩০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৫০০ টাকা, পুঁটি ১ হাজার টাকা এবং রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য বাজারগুলোতে তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। চিংড়ির দাম আকারভেদে ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

মাংস ও ডিমের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ঈদের আগে মুরগির দাম বাড়লেও পরে তা কিছুটা কমেছে। তবে বাজারের এই স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি স্বস্তির বলে মনে করছেন না ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, কিছু পণ্যের দাম কমলেও অধিকাংশ সবজি এখনও ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজির হোসাইন বলেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বড় কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি; বরং কিছু ক্ষেত্রে কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন বাজেটে চাল, গম, আলু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পৌঁছতে সময় লাগবে, কারণ বর্তমানে ব্যবসায়ীরা আগের দামে কেনা পণ্যই বিক্রি করছেন। ফলে বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও ভোক্তার প্রত্যাশিত স্বস্তি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। আগামী সপ্তাহগুলোতে কর ও শুল্ক সংশোধনের প্রভাব বাজারে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রেতা-বিক্রেতা সবার।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা