প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
ফার্মগেটে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বার্ষিক কারিগরি কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কৃষিতে নীতিগত পরিকল্পনার অভাব আছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
ফার্মগেটে নিজস্ব ভবনে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বার্ষিক কারিগরি কর্মশালায় বুধবার সকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “ অপরদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যাদের ৬ মাসই থাকে বরফে ঢাকা তারা ধনী। এটা কীভাবে সম্ভব? কারণ- তারা পরিকল্পিতভাবে নীতিমালা করেছে। কিন্তু আমরা ১২ মাস ফসল ফলিয়েও গরীব। এটার মূল কারণ হয়ত আমাদের নীতিগত পরিকল্পনার অভাব”।
তাই বিজ্ঞানীদের এসব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে বলে আহ্বান জানান তিনি।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “পূর্বপুরুষেরা আমাদেরকে দিয়ে গেছে বলে আমি সুন্দর পৃথিবী উপভোগ করছি। সুতরাং আমি বিশ্বাস করি আমরা সবাই বিশ্বাস করি আগামী প্রজন্মের জন্য আরেকটা সুন্দর বাংলাদেশ, সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে হবে। এটাই আমাদের সবচাইতে বড় দায়িত্ব এবং কর্তব্য। কৃষিতে অনেক সমস্যা আছে, আর আমি বিশ্বাস করি মৃত্যু ছাড়া সব সমস্যার সমাধান আছে মানুষের কাছে। আমরা চেষ্টা করতে চাই বিশেষ করে আমি ছোটকাল থেকে কৃষির সাথে জড়িত। আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি আমি একেবারে প্রকৃত কৃষক। আমি এমন কৃষক আপনি যদি আমারে ধান দাইতে বলেন আমি পারি। যদি বলেন ঘাস খাটতে হেইডও পারি। আবার যদি বলেন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টানের সাথে মিটিং করতে আলহামদুলিল্লাহ সেটাও পারবো”।
মন্ত্রী বলেন, “এদেশের কৃষক ভালো, এদেশের মাটি ভালো, এদেশের বৃষ্টি ভালো। এদেশ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলীয় দেশ। খুব ছোটকাল থেকে আমার মনে একটা প্রশ্ন- পৃথিবীর যেগুলি ধনী দেশ আছে তারা বছরে প্রায় বেশিরভাগ সময়ে বা ছয় মাস বরফ ঢাকা থাকে। আর আমাদের ১২ মাস ফসল ফলে। পাখি ফল খায়, ফল খেয়ে মল ত্যাগ করে ওখান থেকে গাছ জন্মে, আবার ফল ধরে অথচ আমরা গরিব প্রশ্নটা আপনাদের কাছে রেখে গেলাম। এর সমাধান আপনাদের বের করতে হবে”।
মাটির গুণগুণ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি মন্ত্রিত্ব নেওয়ার পরপরই এই মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের সাথে একটা মিটিং করছি। তাদের জিজ্ঞেস করছিলাম যে মাটির পিএইচ লেভেল কত আছে? তারা বললো গড়ে ৪.৫। আমি জিজ্ঞেস করলাম এটা কি আমার ফসল উৎপাদনের যথেষ্ট? তারা বললো না, ৬.৫ প্লাস হতে হবে। সেটা কীভাবে করতে হবে সে ব্যাপারে সহযোগিতা চাই”।
ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “সুস্থ মাটি, সমৃদ্ধ কৃষি এই হোক আমাদের অঙ্গীকার”।
মো. আব্দুর রহিম বলেন, “আদর্শ মাটিতে ৫ শতাংশ অম্ল থাকতে হয়। ফসল ফলানোর জন্য ২ শতাংশ অম্লের প্রয়োজন কিন্তু দেশের মাটিতে তা আছে দেড় শতাংশ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশে দানাদার খাদ্য উৎপাদন হতো দেড় কোটি মেট্রিক টন। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি টনে”।
গোলাম হাফিজ কেনেডি বলেন, “২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ব্যানারে কৃষি নিয়ে কাজ করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। কৃষির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অনুরাগ অনেক। সেটিকে কাজে লাগিয়ে কৃষিখাতে উন্নয়ন করতে হবে। বাংলাদেশে কৃষি বিজ্ঞানীদের ইনসেন্টিভ নেই”।
কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. হাসান জাফির তুহিন, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ অনুবিভাগ) মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. শহীদুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. আফছার আলী।