ডিএসসিসি
গোলাম কিবরিয়া। ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগের আমলে ২৬টি মামলার শিকার হয়ে জেলে যাওয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম কিবরিয়াকে ‘সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া’ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ডিএসসিসির একাধিক সূত্রের দাবি, আধিপত্য বিস্তারের জন্য ফ্যাসিস্ট আমলের কিছু কর্মকর্তা মিলে ‘উপর মহলের কান ভারি’ করে গোলাম কিবরিয়াকে তাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সাময়িক বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, “বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তার বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সকল টেন্ডার কাজ নিয়ন্ত্রণ এবং কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনায় নানা অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য জানা গেছে।”
এতে বলা হয়, “ক্ষমতার অপব্যবহারের সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এ বিভাগের একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তদন্তকাজ সুস্পষ্টভাবে পরিচালনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”
তবে আদেশে ‘সুনির্দিষ্ট’ কোনও অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। বা অভিযোগকারীর নামও উল্লেখ করা হয়নি।
একটি সূত্র বলেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে এখন ‘আধিপত্য বিস্তারের লড়াই’ চলছে। ফ্যাসিস্ট আমলে যারা দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন তারা সব জোট হয়েছে। ফ্যাসিস্টবিরোধী যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন তারা এখন অনেকটাই কোনঠাসা। এই অবস্থায় সংস্থার অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতিকে তাড়াতে পারলে তাদের পোয়াবারো।
এ ব্যাপারে গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যেহেতু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে; এই মুহুর্তে আমি কিছু বলব না।”
আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ২৬টি মামলার শিকার হয়েছেন গোলাম কিবরিয়া। এর মধ্যে শ্যামপুর থানায় ২টি, ওয়ারী থানায় ২টি, যাত্রাবাড়ি থানায় ২টি, পল্টন থানায় ৮টি, শাহবাগ থানায় ৪টি এবং রমনা থানায় ৮টি মামলা দায়ের হয়।
এসব মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে দিনের পর দিন পালিয়ে বেরিয়েছেন। তবে গ্রেপ্তার এড়াতে পারেননি তিনি। ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ৪ মাস ৬ দিন জেলে ছিলেন। ৬ বছর ছিলেন চাকরিচ্যুতও।
শুধু তিনি নন, তার বাবা-ভাইসহ আত্মীয়-স্বজন অনেকের নামেই কয়েক ডজন মামলা হয়েছে। তার সেজো ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছিল ২৯টি মামলা, বাবার বিরুদ্ধে ছিল ২টি মামলা। এসব মামলায় তার বাবা-ভাইয়েরাও মাসের পর মাস জেল খেটেছেন।
এরপরেও গোলাম কিবরিয়া আওয়ামীবিরোধী প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলেন। জুলাই বিপ্লবের সময়ও তিনি ছিলেন ছাত্র-জনতার কাতারেই।