প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:০৭ পিএম
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:০৭ পিএম
গ্রেপ্তার ছিনতাইকারী চক্রের ২৫ সদস্যদের কয়েকজন। ছবি : প্রবা
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের হোতাসহ ২৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র্যাব।
নগরীর পল্টন, মতিঝিল, শাহবাগ, মুগদা, ওয়ারী, খিলগাঁও ও শাহজাহানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—সুজন ফকির, ইউসুফ ঘরামী, মো. শুভ, মো. সবুজ, রাজ্জুল মোল্লা, হাবিবুর রহমান, মো. মিলন, মো. স্বপন, আল আমিন, সিদ্দিকুর রহমান টুটুল ওরফে কালু, মো. রফিক, মো. জাকির, মো. রুবেল আলম, মো. সজল, মো. নুরা, ইব্রাহীম খলিল, সেলিম রেজা, মো. আজিম, মোজ্জাম্মেল হোসেন, মানিক হোসেন, শামীম আলী, ওমর আলী ওরফে মিলন, মো. রনি, মো. রুবেল ও জাহাঙ্গীর আলম।
তাদের কাছ থেকে সুইচ গিয়ার, চাকু, এন্টিকাটার, কাঁচি, ব্লেড মোবাইল ফোন ও অর্থসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, যেকোনো উৎসবকে কেন্দ্র করে এদের তৎপরতা বাড়ে। আসন্ন থার্টি ফার্স্ট নাইটে নাশকতা তৈরির মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ছিনতাই করারও পরিকল্পনা ছিল চক্রটির। ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের প্রায় সবাই মাদকাসক্ত। সাম্প্রতিককালে ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। ফলে র্যাব ওই ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। তারই ধারাবাহিকতায় এই চক্রটিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৩-এর অধিনায়ক বলেন, সাধারণত লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, রেস্টুরেন্টের সামনে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আশপাশের এলাকায় ছিনতাইকারী এই চক্রটির সদস্যরা ঘোরাফেরা করতে থাকে। চক্রের অন্য সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলিতে ওঁৎ পেতে থাকে। সুযোগ পেলেই তারা পথচারী, রিকশা আরোহী, যানজটে থাকা সিএনজি অটোরিকশা, অটোরিকশার যাত্রীদের ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তুলনামূলক জনশূন্য রাস্তা, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ছিনতাই কাজে বাধা দিলে তারা পথচারীদের আঘাত করতে দ্বিধা করে না।
লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, খিলগাঁও, মালিবাগ রেইল গেট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, কমলাপুর বটতলা, মতিঝিল কালভার্ট রোড, নাসিরের টেক হাতিরঝিল, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, পল্টন মোড়, গোলাপ শাহের মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, আব্দুল গণি রোড, মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি।
তিনি বলেন, এ চক্রটি ছিনতাই করা অর্থ দিয়ে নানা ধরনের নেশা করে এবং কেউ কেউ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এই চক্রের সদস্যদের রাজধানীতে বসবাসের জন্য স্থায়ীভাবে কোনো বাসস্থান নেই। তারা সবাই রাজধানীর ভাসমান অবস্থায় বাস করে। চক্রের সদস্যদের প্রায় সবার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে চক্রের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারা জামিনে মুক্ত হয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান র্যাব-৩-এর অধিনায়ক।