প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩:২০ পিএম
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘু-আদিবাসী স্বার্থবান্ধব যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার বাস্তবায়নে কার্যত কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চার নেতারা।
সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় নেতারা এই অভিযোগ করেন।
তারা বলেন, সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু-আদিবাসী স্বার্থবান্ধব অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়িত না হলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে মনে করবে। তারা এমনটি মনে করলে আগামী দ্বাদশ সংসদীয় নির্বাচনে নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটাতে পারে, যার দায় সংখ্যালঘুরা কোনোভাবেই বহন করবে না।
অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐক্যমোর্চার সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কর্মকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে মতবিনিময় করেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. নিতীশ দেবনাথ, বিশিষ্ট সাংবাদিক মনোজ কান্তি রায়, লে. কর্ণেল (অব.) নিরঞ্জন ভট্টাচার্য, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক মনোরঞ্জন ঘোষাল।
সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চাভুক্ত সংগঠনের পক্ষে অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, সাগর সাধু ঠাকুর, ড. প্রভাষ চন্দ্র রায়, শংকর সরকার, রাজকুমার দাস, ড. গজেন্দ্র নাথ মাহাতো, সুব্রত হাজরা, হিমাদ্রী শেখর, বিশিষ্ট ছাত্রনেতা অতুলন দাশ ও গৌতম শীল, বিশিষ্ট নারী নেত্রী সুপ্রিয়া ভট্টাচার্যও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে উত্থাপিত দাবির ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। এর মধ্যে ছিল জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি, পার্বত্য ভূমি কমিশন এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, দেবোত্তর সম্পত্তি আইন প্রণয়ন এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন।’
তিনি বলেন, ‘দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র এক বছর বাকি। অথচ সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহারের সংখ্যালঘু-আদিবাসী স্বার্থবান্ধব প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়নে আজও কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি যা এদেশের ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অধিকতর হতাশ করে তুলছে।’
রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘অস্বীকারের উপায় নেই রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে অনেক দূরে ছিটকে পড়েছে। ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও এক বার্তায় বলেন, ‘সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা নিজ ভূমিতে বাংলাদেশে পরবাসী হয়ে আছি। আমরা পার্বত্য চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নে কথা বললে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছি।’
শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু-আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়ন-বৈষম্য বঞ্চনা অবসানে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই।’
বিশিষ্ট নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কবি নির্মলেন্দু গুণ ও রাজনীতিবিদ অধ্যাপক সুকান্ত দাশ চলমান সংখ্যালঘু-আদিবাসী ঐক্যমোর্চার আন্দোলনের সঙ্গে ঐক্যমত জানিয়েছেন।
সভায় রানা দাশগুপ্ত জানান, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চা গত মার্চ মাসে আড়াই লাখ জনগণের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রদান করেছে। সারাদেশে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে। গত অক্টোবর মাসে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা গণঅনশন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।
এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ৬ জানুয়ারি সারাদেশ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রোডমার্চ করবে ঐক্যমোর্চা। রোড শোর পরদিন ৭ জানুয়ারি ঢাকার শাহবাগ চত্বরে জমায়েত হবে এবং জমায়েত শেষে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করবে।