প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৯ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৩ পিএম
শেখ মো. সাজ্জাত আলী। ছবি: সংগৃহীত
হাদি হত্যা মামলার জাতিসংঘের তদন্তের দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের ওপর নিজে লাঠিচার্জ করার বিষয়ে ব্যাখা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
তিনি বলেন, “যমুনাতে সরকার প্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ঢুকার চেষ্টা করলে এ অবস্থায় ডিএমপি কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে? আমি শুধু নিজেও যাইনি, আইজিপিকে ফোন করেছি। যতক্ষণে উনি এসেছেন, আমরা ততক্ষণে আন্দোলকারীদের সরিয়ে দিয়েছি।”
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সোমবার দুপুরে আয়োজিত ‘নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাখা দেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “গত ১৫ মাসে ১০-২০টা লোক রাস্তা ব্লক করে ফেলে, প্রেগন্যান্ট মহিলা ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে যেতে পারে না, হার্ট অ্যাটাকের রোগী যেতে পারছে না, পরীক্ষার্থী যেতে পারছে না, বিমানবন্দরের প্লেন মিস করছে, আপনারা এগুলো লেখেন।”
তিনি বলেন, “শহরটাকে নিরাপদ রাখেন, মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখেন। আপনারা কথায় কথায় রাস্তা বন্ধ করেন, এটা কি মিথ্যা বলছি আমি? আপনিই (প্রশ্নকারী সাংবাদিক) তো মুভমেন্ট করতে পারেন না।”
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের উপর পুলিশের লাটিপেটার প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ওই দিন ছুটির দিন থাকায় ইনফর্মাল ড্রেসে আমি চুল কাটাচ্ছিলাম। তখন খবর পেলাম যমুনায় আন্দোলনকারীরা ঘিরে ধরেছে। আমি কোনো রকম প্রস্তুতি নিয়ে এসে দেখি অবস্থা ভয়াবহ। যেখানে সরকার প্রধান থাকেন, সেখানে যদি আন্দোলনকারীরা ঢুকে যায়, তাহলে পুলিশ কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে কি না?”
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “সিটিতে দুই ধরণের কেন্দ্র থাকবে- ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘সাধারণ’। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভাগ করা হয়েছে, যেখানে ১৬১৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫১৭টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কামরাঙ্গীরচর, সাতারকুল ও বেরাইদের মতো দুর্গম এলাকা, যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা কঠিন এবং রাস্তাঘাট সরু, সেখানে পুলিশের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। এই ধরনের দুর্গম এলাকায় মূল পরিকল্পনার বাইরে আরও ৩৭টি ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে ৭ জন করে পুলিশ অফিসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।”
নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো ধরনের হুমকি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনও থ্রেট নেই, পরিবেশ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভালো চলছে। ক্রাইম নেই, রাস্তা ব্লকিং নেই । ঢাকা শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ বললেও এই বিশাল জনগোষ্ঠীর শহরে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার।”
পুলিশের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার জানান, গত ১৫ মাস ধরে তিনি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই সময়ে পুলিশ কোনও বিশেষ দলের হয়ে কাজ করেনি। পুলিশের কাজের ধরণই প্রমাণ করে যে তারা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ব করছে না। পুলিশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সাংবাদিক, ডাক্তার এবং প্রকৌশলীসহ সকল পেশাজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে জানান, পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গণমাধ্যমকর্মীরাও রয়েছেন এবং কারো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তারা করছেন না।
ভোট কারচুপি ও গুজবের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার পর প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে ব্যালটের মুড়িগুলো গণনা করা হবে। বক্সে যতগুলো ব্যালট থাকবে তা অবশ্যই মুড়ির সংখ্যার সাথে মিলতে হবে; যদি বাহির থেকে বাড়তি ব্যালট ঢোকানো হয়, তবে তা গণনায় ধরা পড়বে এবং সেই ফলাফল কেউ মেনে নেবে না। তিনি এই ধরণের অপপ্রচারকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান।