প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৩ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০২ পিএম
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সোমবার সকালে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিযা) এবং ‘দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে বক্তারা নির্বাচনি ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক ও পরিবেশবাদীরা।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সোমবার সকালে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিযা) এবং ‘দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এ দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে ডিএসকের সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও পরিজার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পরিজার সভাপতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, ডিএসকের নির্বাহী পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. দিবালোক সিংহ, শ্রমিক নেতা আসলাম খান, কৃষিবিদ মো. আহসান করিম ভূঁইয়া, উন্নয়ন কর্মী সানজিদা জাহান আশরাফি, শিক্ষা আন্দোলন নেতা রুস্তম আলী খোকন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খালেকুন্নাহার তানইয়া, নগর দরিদ্র মানুষের প্রতিনিধি হোসনে আরা বেগম রাফেজা, পরিবেশ কর্মী মোহাম্মদ সেলিম, বানিপার সভাপতি প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক রিয়াজ হোসেন প্রমুখ।
প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, “ভোটাররা ইশতেহার দেখে তুলনা করেন কোন দলের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত এবং কোন প্রতিশ্রুতিæতি তাদের জীবনে প্রভাব ফেলবে। নির্বাচনী প্রচারের সময় ইশতেহার হয়ে ওঠে প্রধান রাজনৈতিক বার্তা। নির্বাচনী ইশতেহার শুধু প্রতিশ্রুতি বা প্রতিজ্ঞা নয় এটা একটি দলের ভবিষ্যত রাষ্ট্র চিন্তার একটি পথ পরিকল্পনা, যা কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিস্তারিত ধাপ বা কৌশল হিসাবে বিবেচিত।
“দেশের অর্থ সামাজিক উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিক জীবনে দীর্ঘ মেয়াদে সুফল লাভের লক্ষ্যে পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করা অত্যাবশ্যক। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন সুরক্ষা কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সন্নিবেশিত করা প্রয়োজন”।
ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, “বাঙ্গালী জাতির স্বার্থে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে পানি ও পয়ঃনিষ্কাসনের অব্যবস্থাপনার জন্য দুই লাখ ৭২ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংসদ এমন হওয়া উচিত যাাতে সেখানে সর্বদা পরিবেশবান্ধব নীতি ও আইনগুলো গ্রহণ করা হয়। রাজনৈতিক দলের ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইশতেহারে পরিবেশ বিষয়ে ঘোষণা এবং তার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করে দিতে হবে”।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক তালুকদার বলেন, “আমাদের সংসদগুলোতে অধিকাংশ সদস্য নির্বাচিত হয় ব্যবসায়ীদের থেকে আর তারাই সবচেয়ে বেশি পরিবেশ ধ্বংস করে । যারা ক্ষমতায় যায় তারাই সব ভুলে যায়। তাই ইশতেহারে পরিবেশ নিয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে এবং পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বয়কট করতে হবে”।
সকল রাজনৈতিক দলের কাছে পরিবেশ বিষয়ক সুস্পষ্ট সুপারিশগুলোও পাঠানোর উপর জোর দেন তিনি।
সংলাপে বক্তারা আসন্ন নির্বাচনের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির জন্য যে সুপারিশ তুলে ধরেন:
● নদীর তলদেশের পলি অপসারণের মাধ্যমে নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
● কৃষি, শিল্প উৎপাদনে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার করা
● সেচ কাজে ভূগর্ভ ও ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে ঋতুভিত্তিক চাষাবাদকে অগ্রাধিকার দিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা
● কৃষককে প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষিপণ্যের ক্ষতি হলে ঋণ মওকুফসহ উপকরণ সহায়তা প্রদান করা
● কৃষি খাতে তরুণদের সম্পৃক্ত করে সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা
● যুব সমাজকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা
● প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূকম্পন মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি করা
● বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা
● নদী দখল-ভরাট নিয়ন্ত্রণ ও খননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি এবং শিল্প ও পয়ঃবর্জ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা
● শিল্প ও পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন করা
● ব্যাপকহারে গাছ লাগানো এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষণ করা
● জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এবং শিশুদের শারিরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ, পার্ক, উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ করা
● পররাষ্ট্র নীতিতে (১) আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায়সঙ্গত হিস্যা প্রাপ্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা (২) বৈশ্বিক পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরুপ প্রভাব মোকাবলায় আর্থিক ও কারিগরী সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী রাষ্ট্রসমূহ এবং জাতিসংঘের সাথে জলবায়ু ক’টনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করা