× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ৬

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:১৫ পিএম

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:৪২ পিএম

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

রাজধানীর কমলাপুর এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশনসহ সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রেলস্টেশনে অধিক মুনাফার লোভে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের এ অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এ চক্রের সদস্যরা গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে ফের একই প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ছে। এমন একটি চক্রের ৬ সদস্যকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। 

তারা হলেনআব্দুল হাকিম, জয়নাল আবেদীন, শামীম ওরফে সম্রাট, আব্দুল জলিল, খোকন মিয়া ও উজ্জল ভূঁইয়া। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে ২১টি কালোবাজারি টিকিট ও টিকিট বিক্রির নগদ ৯ হাজার ৮১৮ টাকা জব্দ করা হয় বলে দাবি করেছে র‌্যাব। 

র‌্যাব জানায়, এ চক্রের হোতা আব্দুল হাকিম। হাকিমের নেতৃত্বে এ চক্রের সদস্যরা মিলে রেলস্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে এক একটি এনআইডি ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করে। এ ছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মুঠোফোন নাম্বার ব্যবহার করেও টিকিট সংগ্রহ করে। এরপর এক একটি ট্রেন ছাড়ার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে থেকে তারা অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রির তৎপরতা শুরু করে। ট্রেন ছাড়ার সময় যত এগোতে থাকে, তাদের কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে। তারা সাধারণত দিগুণ, কখনও কখনও এর চেয়েও বেশি মূল্যে টিকিট বিক্রি করে। 

শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে র‌্যাব-৩ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত পৃথক দুটি অভিযানে টিকিট কালোবাজারি চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করা হয়। এই চক্রটি মূলত তূর্ণা নিশিথা, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, চট্টলা এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস এবং পারাবত এক্সপ্রেসএই সকল ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে থাকে। 

চক্রটির আরও সদস্য ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে ৫ থেকে ৭ জন করে সক্রিয় সদস্য রয়েছে, যারা তাদের টার্গেট করা ট্রেনগুলোর টিকিট কালোবাজারি করে সাধারণ যাত্রীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘আব্দুল হাকিম নিজ জেলা কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে এবং রেলস্টেশনে কর্মরত অসাধু একটি চক্রের যোগসাজশে ২০১৮ সাল থেকে টিকিট কালোবাজারির কারবার শুরু করে। সে মূলত নিজে টিকিট কাটার কাজ না করে তার অধীনস্ত অন্য কর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে চড়ামূল্যে বিক্রি করে থাকে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও সে কখনও গ্রেপ্তার হয়নি। কারণ সে অত্যন্ত সুকৌশলে তার কর্মীদের দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টিকিট কারবারি চালিয়ে আসছিল।’

র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘চক্রটি কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বিভিন্ন জেলার স্টেশনগুলোতেও তাদের এজেন্টদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারির কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। রেলস্টেশনে যে পরিমাণ টিকিট বরাদ্দ থাকে, তার মধ্যে ৫০ শতাংশ বিক্রি হয় অনলাইনে। ফলে কাউন্টারে এসে অনেকে টিকিট না পেয়ে ফিরে যান। আর এই সুযোগটিই গ্রহণ করে টিকিট কালোবাজারি চক্রের সদস্যরা।’ 

কমলাপুর রেলস্টেশনে এই কালোবাজারি চক্রটির হোতা আব্দুল হাকিম তার সদস্য দিয়ে কিংবা কখনও কখনও রিকশাচালক, কুলি, দিনমজুরদের অল্প টাকা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে। এ ছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করেও টিকিট সংগ্রহ করে থাকে বলে জানান র‍্যাবের কর্মকর্তা। 

পরে সেসব টিকিট নিয়ে তারা স্টেশনে ঘুরতে থাকেন এবং সময়-সুযোগ বুঝে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করেন। ঈদসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে তারা এক একটি টিকিট ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে আসছিল। তারা ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ৫০০ টাকার টিকিট সর্বোচ্চ ২০০০ টাকায়ও বিক্রি করেছে বলে জানিয়েছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। 

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার খোকন মিয়ার নামে টিকিট কালোবাজারির দায়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৫টি মামলা রয়েছে এবং সে র‌্যাব-৩ কর্তৃক গত ২০ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়ে ৩২ দিন জেল খেটে জামিনে মুক্তি পায়। জামিনে মুক্তি পেয়ে সে আবারও টিকিট কালোবাজারির কাজে লিপ্ত হয়।

গ্রেপ্তার আরেক আসামি শামীমের নামে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং সে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খাটে। 

এ চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটে জামিনে মুক্ত হয়ে পরে আবারও টিকিট কালোবাজারির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বলে জানায় র‍্যাব। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা