× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গণপরিবহন

৭ বছর পর খুলছে রাজধানীর বাস রুট পারমিটের দুয়ার

মাসুদুল হাসান

প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৫২ পিএম

প্রবা গ্রাফিক্স

প্রবা গ্রাফিক্স

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিষেবা (বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশন) প্রবর্তনের অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ঢাকায় নতুন করে বাসের রুট পারমিট প্রদান না করার। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বোর্ড সভার এই সিদ্ধান্তের পর প্রায় সাত বছর বন্ধ রাখা হয় রাজধানীর গণপরিবহনের নতুন বাসের রুট পারমিট। একই সঙ্গে এ সময়ে বন্ধ ছিল রুট পারমিট অনুমোদনের কর্তৃপক্ষ (রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটি) আরটিসির মিটিং।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে রাজধানীর যাত্রীসেবার উন্নয়ন ঘটেনি। এ অব্স্থায় ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করতে বাড়ানো হচ্ছে নতুন রুট। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস। নগর পরিবহন ব্যবস্থায় এসি বাস যুক্ত হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। 

জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন পরিকল্পনা হাতে নেয়। ‘বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা’ পদ্ধতি প্রবর্তনের কার্যক্রম সমন্বয় করতে এ সময়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ  বিষয়টি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে। এজন্য প্রকল্পের শুরু থেকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নতুন করে বাসের রুট পারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ঢাকার সব বাসকে নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটে চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেও প্রকল্পটি সাত বছর অনেকটা স্থবির ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি এই সংস্থাটি একাধিক রুট চালু করলেও পরিবহন মালিকদের অনীহা ও ব্যবস্থাপনার অদক্ষতার অভাবে প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হয়।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে এখন ১০৮টি সচল রুট রয়েছে। ডিটিসিএর বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন প্রকল্প কর্মকর্তারা চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকায় একটি ট্রাফিক সার্ভে করেছেন। সেই জরিপের তথ্য বলছে, ঢাকায় এখন ৯৫টি বাস রুট সচল রয়েছে। অন্যদিকে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর তথ্য বলছে, ঢাকায় সচল বাস রুট ৯১টি। এদিকে ঢাকার সড়কে চলাচলের জন্য ১৮ হাজার ৩৫৮টি বাসের অনুমোদন বা রুট পারমিট দিয়েছিল আরটিসি। সেগুলোর মধ্যে রুট পারমিট রয়েছে এখন মাত্র ৩ হাজার ৪৪৫টি বাসের।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সূত্রমতে, শহরের ৭০ শতাংশেরও বেশি বাস রুট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বিআরটিএ’র অনুমোদিত ৩৮৮টি রুটের মধ্যে বাতিল করা হয়েছে দুটি রুট। এ ছাড়া প্রায় ২৫০টির বেশি রুট বন্ধ থাকায় সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে রুট পারমিট বন্ধ থাকায় বাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে এসব রুট। আবার কিছু কোম্পানির বাসের রুট পারমিট থাকলেও তা নির্ধারিত রুটে চলছে না। বেশি যাত্রীর আশায় এক রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবহনগুলার মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে।

তবে আশার কথা, দীর্ঘ সময় রাজধানীতে নতুন করে বাসের রুট পারমিট না দেওয়া হলেও এবারে ঢাকা মহানগরীতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস সার্ভিস বাড়াতে নতুন রুট পারমিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ভাড়া নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট বাসমালিক কিংবা কোম্পানিগুলো। এ ছাড়া ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ‘কন্ট্রাক্ট সিস্টেম’ তুলে দিয়ে কাউন্টারভিত্তিক বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, কমিটির সদস্য সচিবকে পত্র জারি করতেও বলা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে গত ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভায় এগুলোসহ ১৯টি সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রো ও পণ্য পরিবহন কমিটির সদস্য সচিব (পরিচালক ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে এসি বাস সার্ভিস চালু করে এর সংখ্যা বাড়ানো হলে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারের ব্যবহার কমবে। এতে সড়কে যানজট হ্রাস পাবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিও কমবে। আমরা চাই, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও সামগ্রিক উন্নতি নিশ্চিত করতে।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আরটিসি মিটিং বন্ধ থাকায় গত সাত বছরে নতুন কোনো গাড়ি সংযোজন হয়নি। এতে সরকার, পরিবহন মালিক, যাত্রীÑ সব পক্ষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।’

গত সাত বছরের রুট পারমিট বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম বলেন, ‘এর দায় মালিক সমিতিকেও নিতে হবে। অনুমোদন নেওয়া রুটগুলোর বড় অংশে তারা কোনো বাস চালাননি।’

 

মামলায় পর্যুদস্ত রাজধানীর গণপরিবহন

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঢাকার গণপরিবহন মালিকদের বাসগুলোর নামে একাধিক মামলা রয়েছে। আর এ কারণে মাস শেষে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। মালিকপক্ষ বলছে, অব্যাহত মামলা ও জরিমানা পরিবহন ব্যবসা পরিচালনায় বড় বাধা।

এ প্রসঙ্গে রাজধানীতে চলাচলকারী ভিক্টর পরিবহনের মালিক মহিউদ্দিন ফারুখ মানিক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ব্যবসার শুরু থেকে মামলার বোঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আমার পরিবহনের শতাধিক গাড়ির প্রায় প্রতিটির নামে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রতি তিন মাস অন্তর প্রতিটি গাড়ির মামলার জন্য ৩০-৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়।’

গাজীপুর থেকে গুলিস্তান রুটে চলাচলকারী আজমেরী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. টিপু বলেন, ‘জরিমানা একলাফে পাঁচ হাজার টাকা করায় পরিবহন মালিকদের চাপ বেড়েছে। একই ধারায় দ্বিতীয়বার মামলা হলে টাকার অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে যায়।’

রাজধানীর দিয়াবাড়ী থেকে পোস্তগোলায় চলাচলকারী রাইদা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল ভূঁইয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অব্যাহত মামলা ও জরিমানার চাপে রাজধানীতে পরিবহন পরিচালনা অপেক্ষাকৃত কঠিন হয়ে পড়েছে। চালকের ভুলের শাস্তি দেওয়া হয় গাড়ির মালিককে।’

এদিকে ঢাকার গণপরিবহনে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিকের অতিরিক্ত কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) আনিসুর রহমান বলেন, ‘প্রচলিত আইনে আইন ভঙ্গ করলে মামলা দেওয়ার বিকল্প নেই।’ মামলা দেওয়ার আগে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া যায় কি নাÑ এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ডিএমপি ট্রাফিকের পর্যাপ্ত জনবল নেই। তবে বর্তমানে চালকদের পয়েন্ট কর্তনের নিয়ম চালু হওয়ায় মালিকদের পক্ষে বোঝা সহজ হবে তাদের চালক কতটা দক্ষ বা অদক্ষ।’ এতে মামলার বিষয়েও মালিকপক্ষের ধোঁয়াশা কেটে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জানা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে মামলার বিষয়ে দুই দফা ছাড় ঘোষণা করা হয়। প্রথমবার ৩০ শতাংশ ও দ্বিতীয়বার ৫০ শতাংশ জরিমানা ছাড় দেওয়ার কথা বলা হলেও দুবারই সকল পরিবহন মালিক এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাধিক জোনে মামলা ভাঙানোর জন্য যেতে হওয়ায় তারা এ সুযোগ নিতে পারেননি। মালিকপক্ষ বলছে, সব মামলা ভাঙানোর জোন একই জায়গায় হলে পরিবহন মালিকরা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক বিভাগকে বিদ্যামান আইন অনুসরণ করতে হবে। তবে পরিবহন মালিকরা যদি প্রচলিত আইনকে তাদের জন্য সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা মনে করেন, তাহলে তারা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসে নিজেদের দাবি জানাতে পারেন।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা