প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৩৫ পিএম
ট্যানারি শিল্পের বর্জ্য অর্থনীতির নতুন দিক খুলে দিচ্ছে। আগে শুধু চামড়া থেকেই আয় করার ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমোনে তা বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ হয়ে পড়ছে। এসব ট্যানারি শিল্পের বর্জ্য থেকে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে।
দেশে প্রতি বছর ঢাকার সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীতে পশু চামড়া প্রক্রিয়াকরণ শেষে যেসব কঠিন ট্যানারি বর্জ্য ফেলা হয়— এই কঠিন বর্জ্য রি-সাইকেল করে শতভাগ রপ্তানিমুখী পণ্য তৈরি সম্ভব।
ইতিমধ্যে এ কাজে হাত দিয়েছে চীনা কোম্পানি বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি সাভারে কারখানা স্থাপন করে জেলাটিন উৎপাদন করছে। সেইসঙ্গে তারা ট্যানারি বর্জ্য থেকে জেলাটিনের পাশাপাশি শিল্প-প্রোটিন পাউডারও উৎপাদন করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম শাহনেওয়াজ।
সম্প্রতি ‘অ্যাওয়ারনেস রেইজিং ক্যাম্পেইন অন এনভায়রনমেন্টাল ইম্পেক্টস এন্ড রাইটস এট লেদার সেক্টর’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সাভারের ট্যানারি শিল্পাঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বিল্ডিং এ সাসটেইনেবল লেদার সেক্টর ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জীবন ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশন, বিলস, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও সবুজের অভিযান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জীবন ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এ এম এম খায়রুল আনাম ও হেড অব ইভেন্ট শাহেদ আহমেদ খন্দকার।
মো. গোলাম শাহনেওয়াজ বলেন, লেদার সেক্টরে অনেক সমস্যা থাকলেও সেগুলো সমাধানে আমরা আগাচ্ছি না এটা বলা যাবে না। লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পেলে বিশ্বের ২৪ শতাংশ বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়, বাকী অংশ বাজার কিন্তু পড়ে আছে— সেগুলোতে প্রবেশ করতে হবে। সেই বাজার খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে যেতে হবে। লেদার একটি উৎকৃষ্ট প্রোটিন। এটি থেকে মুরগির জন্য প্রোটিন তৈরি করা যায়। মাছকে খাওয়াতে পারি।
পরিত্যক্ত চামড়া থেকে কুকুরের খাবার তৈরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমেরিকায় কুকুরের খাবারের দাম মানুষের খাবারের চেয়ে বেশি। লেদার থেকে কুকুরের খাবার তৈরি করা যায়। বাংলাদেশে চামড়ার আভ্যন্তরীন বিশাল ৮-১০ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ হচ্ছে চামড়ার ব্যাগ, জুতা। এসব পণ্য চীন থেকে আসে। অথচ আমরা বলি চামড়ার বাজার মন্দা। স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে তো এলডব্লিউজির সনদ দরকার নেই।
তিনি বলেন, ট্যানারি থেকে ৯০ হাজার মেট্রিক টন সলিড ওয়েস্ট হচ্ছে। এগুলো বাজারজাত করতে পারলে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা সরকারের ফান্ডে আসবে এবং পরিবেশ ভালো থাকবে। তাই বর্জ্যকে সোনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। প্রতিদিন আমাদের যে পরিমাণ ক্রোম শেভিং ডাস্ট হবে চীনা কোম্পানি তা কিনে নিয়ে যাবে। সেগুলো দিয়ে তারা জেলাটিন ও শিল্প-প্রোটিন পাউডার প্রস্তুত করবে। চীন ও রাশিয়ায় এসবের বাজার রয়েছে। তা ছাড়া ক্যাপসুল তৈরির উপাদানও এখানে তৈরি হবে। আমাদের দেশে যে পরিমাণ ক্যাপ্সুলের চাহিদা রয়েছে সেই ক্যাপ্সুলের কাভার তৈরি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ৬টি ট্যানারিকে নিজস্ব ইটিপি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমাদের বছরে ৮৫-৯০ হাজার টন সলিড ওয়েস্ট হয়।