প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৪৪ পিএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৫৩ পিএম
সুর সুধা সঙ্গীতায়নের উদ্যোগে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের হুমায়ূন রোডে ২৭তম জাতীয় ও ৩৪তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানসিক শক্তি, সাংস্কৃতিক প্রতিভা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুরসুধা সঙ্গীতায়নের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন দোলন। তিনি বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আমাদের দেশের সম্পদ। তাদের সৃজনশীলতা, প্রতিভা ও মানসিক দৃঢ়তা আমাদের সমাজকে সমৃদ্ধ করে তোলে। তাই তাদের প্রতিটি প্রতিভা ও সাফল্যকে জাতীয় অগ্রগতির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি ছিলেন- নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সংগীতশিল্পী ড. মাশরুরা শফিক স্বপ্না, বিশিষ্ট শিশু শল্য চিকিৎসক ড. বিজয় কৃষ্ণ দাস, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নিজামুদ্দীন আহমেদ আলম এবং ইনার হুইল ক্লাব অব গ্রেটার ঢাকা এর রাহেনুমা খানম ও আফ্রোজা কবির।
সম্মানিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সম্মান, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, সঠিক পরিচর্যা, উপযুক্ত সুযোগ ও ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা গেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা জাতির অন্যতম শক্তিতে পরিণত হতে পারেন। এছাড়াও তারা সংগঠনটির পাশে থেকে সুরসুধা সঙ্গীতায়ন তথা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিল্পীদের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য সাধ্য মত সহযোগিতা করার আশ্বাস ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সংগঠনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথি ও ছবি সংরক্ষণ করার জন্য অন্তরা দাস সুরসুধা সঙ্গীতায়নকে একটি পোর্টেবল হার্ডডিস্ক প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতিভা উপস্থিত সকলকে অভিভূত করে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সুরসুধা সঙ্গীতায়নের সদস্য মীর আজিজুল হক আপন, ইসমে আজম, ড. মাশরুরা শফিক স্বপ্না ও মো. মিলন হোসেন।
উল্লেখ্য, সুরসুধা সঙ্গীতায়ন এক যুগেরও অধিক সময় ধরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাংস্কৃতিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং মূলধারার সমাজে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।