সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৪৫ পিএম
জাতিসংঘের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন (কপ) থেকে দাবি আদায় করতে হলে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, কপে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেওয়া নেগোসিয়েটররা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি। এদের একটি অংশ সরকারের তোষামোদীতে ব্যস্ত, অপরটি স্বাধীন। তোষামোদিদের নিয়ে গিয়ে সরকার নিজেকে বেনিফিটেড ভেবে থাকে, অথচ এরা কোনো কাজেই আসে না। কেননা কপে নেগোসিয়েশনে লেগে থাকতে হয়, এ ধরনের জ্ঞান তাদের নেই।
অপরদিকে স্বাধীন ব্যক্তিবর্গ যতই আওয়াজ তুলুক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি না আসলে কপ থেকে দাবি আদায় করা সম্ভব হবে না। এসব কারণে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ, বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণধর্মী ও জ্ঞাননির্ভর সিভিল সোসাইটি তৈরি হয়নি।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘কপ-৩০ এর ফলাফল এবং বাংলাদেশে করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
কোস্ট ফাউন্ডেশন, কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (সিপিডি), সেন্টার ফর পার্টিসেপেটরি রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), ইক্যুইডিবিডি, সুন্দরনবন সুরক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম (বিসেজেএফ) এবং ওয়াটার্স কিপারর্স বাংলাদেশ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এটি সঞ্চালনা করেন ইক্যুইডিবিডি’র চিফ মডারেটর ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম রেজাউল করিম চৌধুরী। এতে কপ-৩০-এ অংশগ্রহণকারীসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে রয়েছে- সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর হাসান মাসুম, সিপিআরডি’র প্রধান নির্বাহী সামসুদ্দোহা, ওয়াটার্স কিপারর্স বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী শরীফ জামিল, বিসেজেএফের সভাপতি কাউসার রহমান ও সম্পাদক মোতাহার হোসেন, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখীল চন্দ্র ভদ্র, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, সাংবাদিক সালাহউদ্দিন বাবলুসহ অনেকে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশন’র এম. এ. হাসান।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু অর্থ প্রাপ্তির সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে পর্যায়ক্রমে সরে আসার রোডম্যাপ ছাড়াই বেলেম চুক্তি (কপ-৩০) চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস বাধ্যতামূলক না করে স্বেচ্ছায় করার আহ্বান মূলত বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের মূল কারণকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার বাস্তবসম্মত উপায়ের অভাবে বিশ্ব এখন ৩ ডিগ্রি উষ্ণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তারা বলেন, প্রস্তাবিত ট্রিপল অভিযোজন অর্থায়ন লক্ষ্য ২০৩০ থেকে ২০৩৫ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই বিলম্বিত অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা উন্নত বিশ্বের দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল। আসলে তাদের লক্ষ্য সহযোগিতা নয়, জলবায়ু অর্থায়নকে ঋণ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর টিকে থাকার সংকট আরো ঘনীভূত হয়ে উঠেছে। সুতরাং বাংলাদেশের মতো উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর উচিত হবে নিজস্ব সম্পদের উপর নির্ভর করে শক্তিশালী স্থানীয় অভিযোজন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বরাবরের মতো এবারও এলডিসি ও এমভিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট আর্থিক প্রতিশ্রুতি আসেনি। ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে এমন নয়, পেলে ও যৎসামান্য অনুদানভিত্তিক বাকি পুরোটাই ঋণ নির্ভর।
সামসুদ্দোহা বলেন, ৫৯ট অনুচ্ছেদের মুতিরাও চুক্তি বাস্তবায়নের কোনো রাজনৈতিক অঙ্গীকার আমরা পায়নি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করার কোনো সিদ্ধান্ত পায়নি, শুধু আলোচনার কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলনের মূল অলোচনার বাহিরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ব্রাজিলের নেতৃত্বে এবারের নতুন তহবিল ট্রপিক্যাল ফরেস্ট ফরেভার ফ্যাসিলিটি তেমনই একটি, এটাও একধরনের ঋণ তৈরির হাতিয়ার।
শরীফ জামিল বলেন, যদি জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা না যায় তাহলে আমরা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কীভাবে পর্যায়ক্রমে বন্ধ হবে? ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেই এনডিসি-০৩ জমা দেয়নি, তারাই আবার এনডিসি পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করছে, বিষয়গুলো হাস্যকর।