× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বঙ্গোপসাগরে ৬৫ নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধান : জরিপ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৩৩ পিএম

বঙ্গোপসাগরে ৬৫ নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধান : জরিপ

বঙ্গোপসাগরে ৬৫ নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধান মিলেছে, তারমধ্যে ৫টি প্রজাতি শুধুমাত্র বঙ্গোপসাগরেই দেখা গেছে। এসব প্রজাতি বিশ্বের অন্য কোনো সাগরে নেই বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহযোগিতায় নরওয়ের গবেষণা জাহাজ ‘আর ভি ড. ফ্রিডজফ নেনসেন’ মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম জরিপ পরিচালনা করে। জরিপের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. জাবের। সম্মানিত অতিথি ছিলেন এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, বাংলাদেশস্থ নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হকুন আরাল্ড গিলব্রানসুন।

গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৩ জন বিজ্ঞানীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ২৬ জন গবেষক এ জরিপ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞানীরা এসব নতুন প্রজাতি ও রেয়ার প্রজাতির ৫টি মাছ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তা ছাড়া গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, বঙ্গোপসাগরের এমন কিছু স্থান চিহ্নিত করেছে যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা খুব কম, এমনকি কোথাও কোথাও তা নাজুক পর্যায়ে চলে গেছে। সেখানে বায়োডায়ভার্সিটি সমস্যা হচ্ছে। ছোট প্রজাতির কিছু জীব-বৈচিত্র্য জীবন ধারণ করতে পারলেও বড় বড় মাছ ও উদ্ভিদসহ সামুদ্রিক প্রাণ-বৈচিত্র্য জীবন ধারণ করতে পারছে না। তারা এটিকে ভয়াবহ অবস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত গবেষণার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। যদি লম্বা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অক্সিজেনবিহীন থাকে তাহলে একটি ডিজিস্টার হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। তা ছাড়া সাগরে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের কারণে বেশকিছু প্রজাতির মাছের মজুদ কমে গেছে। এসব মজুদ কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আহ্বান জানানো হয়। 

গবেষণা জরিপে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাঈদুর রহমান বলেন, আমাদের ফিশিং প্রেশার আছে এটি ম্যানেজ করতে হবে। কেননা আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সাস্টেইনেবল ফিশারি এস্টাবস্টি করা। আর এজন্য যা যা করণীয় সে ব্যাপারে আমরা সরকারকে পরামর্শ দেব। যাতে আমরা কামব্যাক করতে পারি। আমাদের নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়ে বাস্তবায়ন করলে আশাকরি সেসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

জরিপে পরিবেশসংক্রান্ত দূষণ, প্লাস্টিকদূষণসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ, পরিবেশদূষণসহ নানা কারণে মাছসহ অন্যান্য সামুদ্রিক জীবসংকটে পড়ে গেছে। এ থেকে উত্তরণে সম্মিলিত প্রয়াস দরকার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা আখতার বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর সহযোগিতায় নরওয়ের গবেষণা জাহাজ ‘আর ভি ড. ফ্রিডজফ নেনসেন’ মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম জরিপ পরিচালনা করায় ও এর সঙ্গে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, ক্র, নৌ, কোস্ট, বিমানসহ বিভিন্ন বাহিনীর যারা সহযোগিতা করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। 

তিনি বলেন, এই জরিপে আমাদের আশার আলো দেখিয়েছে, আমরা নতুন ৬৫ নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধান পেয়েছি। তাছাড়া আরও এমন ৫ প্রজাতি পেয়েছি, যেগুলো শুধু আমাদের বঙ্গোসাগরে দেখা মিলছে। আমরা এসব সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহারে উদ্যোগ নেব। মৎস্য সম্পদের মজুদ কমে যাওয়ার কারণগুলোও তুলে ধরে ফরিদা আখতার বলেন, আমরা অনিয়ন্ত্রিত ও অতিরিক্ত মাছ আহরণ, অসময়ে মাছ আহরণ, মা মাছ রক্ষা না করাসহ বিভিন্ন কারণে মজুদ ঘাটতিতে পড়ছি। এসব বিষয় সুরাহার জন্য অচিরেই বিজ্ঞানী, মৎস্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন বাহিনীসহ সকলের অংশগ্রহণে পরামর্শ সভা আহ্বান করব। সেখানে যেসব পরামর্শ আসবে তা বাস্তবায়ন করা হবে। 

উপদেষ্টা বলেন, আগামী মাসে এ জরিপের বিস্তৃত গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হবে। তখন আরও কী কী সমস্যা ও সম্ভাবনা রয়েছে তা জাতির কাছে তুলে ধরা হবে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা