× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রশাসন থেকে সমাজ সব স্তরেই বৈষম্য রয়ে গেছে : শামসুল হুদা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪২ পিএম

প্রশাসন থেকে সমাজ সব স্তরেই বৈষম্য রয়ে গেছে : শামসুল হুদা

দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসলেও বৈষম্য রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)-এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। সচেতনতার অভাব ও সামাজিক কাঠামোর বৈষম্যের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় এনজিও ফোরামের সেন্ট্রাল ট্রেনিং সেন্টারে জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম আয়োজিত জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের ‘১৯ বছরের সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ ও বার্ষিক সাধারণ সভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

শামসুল হুদা বলেন, বৈষম্যবিরোধী স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা হলেও প্রশাসন থেকে সমাজ সব স্তরেই বৈষম্য রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ যে রাষ্ট্রগঠনের প্রত্যাশা করেছিল, ৫৫ বছর পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হলেও নিহত দুই হাজার মানুষের মৃত্যুকে ভুলে গেলে চলবে না।

নারীর অধিকার নিয়ে তিনি বলেন, ‘খাদ্য, জমি ও সম্পত্তিতে নারীর অধিকার নেই বললেই চলে। সচেতনতার অভাব ও সামাজিক কাঠামোর বৈষম্য নারীদের এগিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে।’

স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। তবে এটি প্রান্তিক মানুষ ও নারীর জন্য কার্যকর না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না বলেও জানান তিনি। সংবিধানে রাষ্ট্রকে জনগণের বলে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নারীর অধিকার রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রথম কমিশনে নারী কমিশন না থাকা এবং পরে ঐক্যমত্য কমিশনের প্রভাবে নারী কমিশন কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, নারী কমিশনের কাজ যেন কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

সভায় জেএনএনপিএফ-এর চেয়ারপারসন মমতাজ আরা বেগম বলেন, নারীর প্রতি নির্যাতন অতীতেও ছিল, এখনও আছে। একজন নির্যাতনকারী হঠাৎ তৈরি হয় না—পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিবেশই তাকে গড়ে তোলে। তিনি বলেন, নারীরা আজও রাতে বের হতে ভয় পান; সমাজে এমন নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে আইন প্রণেতা থেকে বিচার বিভাগ—সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। তাঁর মতে, নিজের বিবেককে শাণিত না করলে কোনো পরিবর্তনই সম্ভব নয়।

একশনএইডের মানবাধিকার কর্মী মৌসুমি বিশ্বাস বলেন, নারীর সম্পত্তির অধিকারকে রাষ্ট্র প্রায় অকার্যকর করে রেখেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আইন থাকলেও প্রয়োগ না হওয়ায় নারীরা তাদের অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

‘নারীপক্ষ’র রিনা রায় বলেন, ৪২৩ টা সুপারিশের মধ্যে ৩ টিতে আপত্তি দেওয়া হয়। এ ৩ টাকে যারা আপত্তি জানিয়েছে তাদেরকেও বাদ দিতে হবে। প্রান্তিক নারীরা একে অপরকে সম্মান দেয় না। স্বার্থ যেখানে আছে সেখানে সবাই যায়। নিজের স্বামী সম্পত্তি নিতে চাইলেও সমস্যা হতে পারে। নারীর যুদ্ধ করতে হবে।

নারীদের পাঁচ ঘন্টা কাজের ব্যাপারে রিনা বলেন, কর্মঘণ্টা কমানোর ব্যাপারে আমরা একমতে যাবো না। পরিবার, সমাজকে নারীকে দাঁড় করানোর জন্য কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় বিষয়ে যে বিষয়গুলা আঘাত করে সেটা যারা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাজ করে তাদের জানাতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা