প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:১০ পিএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৩ পিএম
আবুল সরকারকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ফরহাদ মজহার
বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করা মানে আমাকে গ্রেপ্তার করা, আমি এটা মেনে নেব না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট চিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা আন্দোলনের প্রথম থেকে তিনি আমাদের সঙ্গে যুক্ত, শহীদ মিনারের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে এমন কোনো প্রতিবাদ সভা নেই, যেখানে আমার পাশে ছিলেন না আবুল সরকার।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন ফরহাদ মজহার। সাধু গুরুভক্ত ও অলি-আওলিয়া আশেকান পরিষদ এ সভায় আয়োজন করে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে যে বার্তা আমরা লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে পেয়েছি- সেটা হলো ব্যক্তির অধিকার, ব্যক্তির মর্যাদা এবং তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এই অধিকার, মর্যাদা ক্রমাগত ৫ আগস্টের পর থেকে হরণ করা হয়েছে।
ফরহাদ মজহার বলেন, এর আগে আমরা এক ধরনের ফ্যাসিস্ট শক্তিকে দেখেছি, ফ্যাসিস্ট শক্তির নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠা দেখেছি, তারা তাদের সেক্যুলার, জাতিবাদী বলে দাবি করত।
মাজার ভাঙাকে ধর্মীয় ফ্যাসিজম আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এখন আমরা আরেক ধরনের ধর্মীয় জাতিবাদ দেখছি, এটা কিন্তু ধর্মীয় ফ্যাসিজম। এই ধর্মীয় ফ্যাসিজম ৫ আগস্টের পরে মাজার ভাঙার মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। আমরা সরকারকে জানিয়েছি, আমাদের কতল করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধেও নানান ধরনের অপপ্রচার তারা চালিয়েছে।
সরকারের উদ্দেশ্যে এ চিন্তক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে জনগণের কাছে আপনাদের অঙ্গীকার যদি আপনারা রক্ষা করতে চান, তাহলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের ব্যক্তির মর্যাদা, অধিকার, কথা বলার অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু এতদিন যাওয়ার পরে যে ঘটনা আবুল সরকারকে নিয়ে হয়েছে এটা আমাদের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় বক্তারা আবুল সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা মামলা’ দাবি করে এটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানান। একইসঙ্গে বাউলদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিও জানান।
এর আগে (২০ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় এক গানের আসরে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত। রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তৌহিদী জনতা ও আলেম-ওলামারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করলে একই সময় আবুল সরকারের ভক্তরা মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে শহরের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পাশে বাউল ভক্তদের ওপর তৌহিদী জনতার একটি অংশ হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে।