প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ০০:৪০ এএম
শরিয়াহভিত্তিক আদর্শ নিকাহ (বিবাহ) ব্যুরো ও কনসালটেন্ট প্লাটফর্ম ‘আইডিয়াল ম্যারেজ ব্যুরো’র প্রতিষ্ঠাতা মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) বিকালে ঢাকার আটিবাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মনিরুল হক জানান, গত শুক্রবার কাসেমীর স্ত্রী তামান্না হাতুনের পক্ষে তার মামি আন্না পারভীন বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে কেরানীগঞ্জ থানায় পুলিশ হেফাজতে আছেন কাসেমী।
সম্প্রতি কাসেমীর বিরুদ্ধে তার তৃতীয় স্ত্রী পরিচয়ে গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন এক নারী। গত ১৬ অক্টোবর ‘তামান্না হাতুন’ নামে ফেসবুক আইডি থেকে এ অভিযোগ করা হয়। তার পোস্টটি তুলে ধরা হলোÑ ‘আমি মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমীর তৃতীয় নম্বর স্ত্রী। গত এক বছর ধরে তার সঙ্গে আমার মৌখিক বিবাহের মাধ্যমে সংসার করি। দশ হাজার টাকা কাবিন দিয়ে। তা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। Ideal Marriage Bureau-(IMB)-এর মাধ্যম মেয়েদেরকে সংসার দেবে, সেটা ওরা ওয়াদা করে। তাদের দুঃখকষ্ট তারা দেখবে। কিন্তু এসবের পেছনে তারা সেসব নারীকে এক মাসে দুই মাসের জন্য কন্টাক্টে বিয়ে দেয়, কিছু কিছু বড়লোক লোকের সঙ্গে। তারা যখন তাকে ছেড়ে দেয় তখন প্রশ্ন করলে বলে, বউ বেশি তর্ক করে তাই ছেড়ে দিয়েছি।’
তিনি আরও লেখেন, একদিক দিয়ে নারীকে ঘর-সংসার দেবে বলে, আরেকদিকে ইচ্ছাকৃতভাবে নারীকে ব্যবহার করে, তাদের সংসার নষ্ট করার পরিকল্পনা করে। এসব নিয়ে তর্ক করতে গেলে তার সঙ্গে আমার ঝামেলা হয় এবং একপর্যায়ে মুখে তালাক দেয়। তারপরও আশায় ছিলাম সংসার ঠিক হয়ে যাবে। তার সঙ্গে আমার তালাক হওয়ার পরও আমার সঙ্গে মেলামেশা করে এই বলে যে, সে সবকিছু ঠিক করে নেবে এবং সে সময় আমার গর্ভে বাচ্চাও আসে। বাচ্চা আসার আগে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং আমি আমার মামার বাসায় যাই। কয়দিন পর যখন ডাক্তারের কাছে যাই, তখন এ খবর পাই যে, আমি গর্ভবতী এবং সেটা তাকে জানাই। সে আমাকে বলে, ‘এটা অবৈধ সন্তান এটা পৃথিবীতে আসলে তোমার আর আমার জন্য ক্ষতিকর। আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। এই বাচ্চা ফেলে দাও, আমি সবকিছু ঠিক করে ফেলব।’ সে আর তার দুলাভাইয়ের প্রথম স্ত্রী আমাকে জোর করে ওষুধ খাওয়ায়। বাচ্চা নষ্ট হওয়ার তিন দিন পর সে কুষ্টিয়াতে গিয়ে ১৩ বছরের মেয়েকে বিয়ে করে।’