প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করবে আজ। রায় ঘোষণার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সংযোগ সড়ক ও সরকারি স্থাপনায় পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমে এসেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নাশকতার ঝুঁকি বিবেচনায় রাজধানীর বেশ কিছু পয়েন্টে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা বলয় ও চেকপোস্ট।
হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এলাকা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী সড়ক আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদও জোরদার করেছে পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টের চারদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাসদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে।
এদিকে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, কারওয়ানবাজার রেলক্রসিং, গাবতলী, শাহবাগ, মগবাজার ও মিরপুরসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোতে পুলিশ সদস্যরা থেমে থেমে যানবাহন চেক করছিলেন।
তবে সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল। অফিসগামী মানুষজনের ভিড় ছিল আগের মতোই। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কম হলেও রাস্তায় গণপরিবহন, বাস, রিকশা এবং মেট্রোরেল চলাচল ছিল অব্যাহত।
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আদালত চত্বরে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা-কর্মী রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়িতে আগুন লাগানোর মতো ঘটনা ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রায়কে সামনে রেখে কোনো ধরনের শঙ্কার সুযোগ নেই।