প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:৩৬ পিএম
ঢাকার আদালতপাড়ায় ন্যাশনাল মেডিকেলের প্রবেশপথে প্রকাশ্যে গুলি করে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর মামলা হয়েছে। কারও নামোল্লেখ না করে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার নিহত মামুনের স্ত্রী বিলকিস আক্তার রীপা বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় মামলাটি করেন।
সূত্রাপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, তারিক সাইফ মামুন হত্যার ঘটনায় শনিবার তার স্ত্রী রীপা মামলা করেছেন। অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১২ জন আসামি। ডিবি পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার করলেও মামলায় কেন অজ্ঞাত আসামি জানতে চাইলে ওসি বলেন, আসামি ধরা পড়েছে অস্ত্র মামলায়। হত্যা মামলায় আসামিদের আইও তদন্ত করে বের করবেন।
১১ নভেম্বর তারিক সাইফ মামুন হত্যায় অংশ নেওয়া দুই শুটারসহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর ডিবি। গ্রেপ্তার দুই শুটার হলেনÑ ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক ও রবিন। গ্রেপ্তার বাকি তিনজন হলেনÑ ইউসুফ, রুবেল ও শামীম।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ফারুক ও রবিন পেশাদার দুই শুটার। গ্রেপ্তারের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল, হত্যাকাণ্ডের পারিশ্রমিক হিসেবে নগদ টাকা ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
ডিবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী রনি। রনি ছিলেন একসময়ের মুদি দোকানি, বর্তমানে কাফরুলের বাসিন্দা এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী। আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত জুটি ইমন-মামুনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য এবং প্রকট। হত্যাকাণ্ডের জন্য রনি নিজে দুই লাখ টাকা দেন এবং অস্ত্রও সরবরাহ করেন। মূল আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার নিয়েই হত্যাকাণ্ড। রনি পলাতক। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। স্বজনরা জানান, পুরনো একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে রাজধানীর আফতাবনগরের বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা মামুনকে গুলি করে হত্যা করে। দুই বছর আগেও রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০ বছরের বেশি সময় জেল খেটে ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পান মামুন। জামিনের তিন মাসের মাথায় ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় একদল সন্ত্রাসী। তখন পাশ দিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেল আরোহী ভুবন চন্দ্র শীলের মাথায় একটি গুলি লাগে। ২৫ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভুবন মারা যান। এ ঘটনার পর পুলিশ বলেছিল, গুলি ছুড়েছিলেন কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোকজন।
ইমন ও মামুন একসময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার আতঙ্ক ছিলেন। তাদের গড়ে তোলা বাহিনীর নাম ছিল ‘ইমন-মামুন’ বাহিনী। তারা দুজনই চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি।