প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:০৪ পিএম
ফাইল ছবি।
নির্বাচনের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রচিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, নির্বাচন মানে গণতন্ত্র, এই ভুয়া তত্ত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্র মানে হচ্ছে জনগণের সামষ্টিক অভিপ্রায় বাস্তবায়িত করা।
সোমবার (১০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফরহাদ মজহার।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের আরেকটা নাম আছে, সেটা হচ্ছে গণ-সার্বভৌমত্ব। জনগণের গাঠনিক ক্ষমতা কখনও হরণ করা যায় না। আন্দোলনসহ বিভিন্ন কিছুর মধ্য দিয়ে জনগণ তার এই গাঠনিক ক্ষমতাকে জারি রাখে বলে দাবি করেন এই রাষ্ট্রচিন্তক।
ফরহাদ বলেন, যদি আমরা কিছু করতে চাই তাহলে দয়া করে নির্বাচনের ধারণাটা বাদ দেন। নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র এটা মারাত্মক ভুল। নির্বাচনের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, সমস্যা হচ্ছে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাকে যেখানে দেওয়া হয়েছে, পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলো রয়ে গেছে। যেহেতু শেখ হাসিনার রাষ্ট্রকে আমরা টিকিয়ে রেখেছি, সেই রাষ্ট্রটা এখনও আছে।
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সেই রাষ্ট্রটি আপনার সামনে দানবের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এটাকে আপনি ভাঙতে পারছেন না। আপনি বলছেন, এটাকে সংস্কার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নতুন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ খুব সহজ। নতুন গণপরিষদ গঠন করা এবং একটা গণপরিষদে নির্বাচন করা। গণপরিষদে আমাদের সমস্ত সাংবিধানিক প্রশ্ন, সকল আইনি প্রশ্ন, রাষ্ট্রীয় প্রশ্ন ফয়সালা করা। যখন আমরা সিম্পল ফরমূলাকে জটিল করে ফেলি, এদিক-ওদিক নিয়ে যাই, তখন বিভিন্ন শক্তির কারণে আমরা এটাকে তখন নষ্ট করে ফেলি।
ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে এই রাষ্ট্রচিন্তক বলেন, জনগণকে বলতে দেন তারা কেমন বাংলাদেশ চায়। জনগণকে ক্ষমতা দেন। এটা না করে আপনি দু-তিনটা লোক নিয়ে এসে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করলেন। এটার তো কোনো ভ্যালিডিটি নেই। আপনাদের কোনো এখতিয়ারই নেই।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান প্রমুখ।