প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৪৩ পিএম
কেআইবি লোগো।
টানা ১৬ বছর ভোটবঞ্চিত থাকা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) নির্বাচনের হাওয়া বইছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম, রাজনৈতিক দখলদারিত্ব ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের শেষে প্রশাসকের উদ্যোগে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলায় ফিরছে ৩৩ হাজার সদস্যের সংগঠনটি। নতুন করে গঠিত হয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটকে কেন্দ্র করে কৃষিবিদদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
২০০৯ সালের পর থেকে কেআইবিতে কোনো নির্বাচন হয়নি। ফলে কেউ ভোট দিতে পারেনি। তখন থেকে আওয়ামী লীগপন্থী বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তফসিল ঘোষণা করা হলেও দলীয় কোন্দল, মামলা এবং নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে নির্বাচন স্থগিত থাকতো। সর্বশেষ ২০১৬ সালে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তখনও দলীয় সংঘাতের কারণে ভোটারদের হাতে কালি পড়েনি। পরবর্তীতে প্রশাসক নিয়োগ হলেও আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে ভেস্তে যায় নির্বাচন। গণঅভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বিএনপিপন্থী কৃষিবিদদের সংগঠন এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) কেআইবির নিয়ন্ত্রণ নিলেও দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব সংঘাতে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ২০ জানুয়ারি লে. কর্নেল মো. আব্দুর রব খানকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর চালান শুদ্ধি অভিযান। এতে বেরিয়ে আসে বছরের পর বছর জমে থাকা আর্থিক অনিয়ম, ভুয়া খরচের চালান, প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ, হিসাববিহীন ব্যয় ইত্যাদি। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসক লে. কর্নেল মো. আব্দুর রব খান জানান, নতুনভাবে আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা চলেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সদস্যদের স্বার্থে কেআইবিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ কাজে সংগঠনের অনেকে সহায়তা করছেন। প্রশাসক জানান, ২০১৭ সাল থেকে কেআইবির আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষার কাজ চলছে। এতে দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। সব হিসাব নতুনভাবে নিরীক্ষা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কেআইবির জমির খাজনা ও হোল্ডিং ট্যাক্স কখনও পরিশোধ করা হয়নি। হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনাইটেড হাসপাতালের সঙ্গে সদস্যদের চিকিৎসা ছাড়ের জন্য চুক্তি হয়েছে।
অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করে এখন সবাই প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আসছে বলে জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, একটি ব্যাংকে কেআইবির বড় অঙ্কের টাকা গচ্ছিত ছিল। এখন টাকা উদ্ধারের কাজ চলছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর গঠিত নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. লুৎফুর রহমান। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- বিএডিসির সাবেক মহাব্যবস্থাপক মাহমুদ হোসাইন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. তারিক হাসান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক পরিচালক মো. আব্দুল বাতেন, সেনাবাহিনী সদর দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (কৃষিবিদ) ড. সাইফুল্লাহ আনসারি, সাবেক সচিব ড. মো. আফজাল হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. মো. আবুল হাছানাত ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফ আহমেদ চৌধুরী।
নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা যাচাই–বাছাই শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। এতে দীর্ঘদিন ভোটবঞ্চিত কেআইবির সদস্যরা এবার নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাবেন।