প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ০০:০৪ এএম
ভারি বৃষ্টির পানিতে ডুবেছে রাজধানী ঢাকার বেশিভাগ নিচু এলাকা। অবিরাম বৃষ্টিতে যেন গোটা শহর থমকে গেছে। শনিবার (১ নভেম্বর) বিকাল থেকে ঢাকার আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। তারপর শুরু হয় বৃষ্টি। প্রথমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলেও পরে মুষলধারে নামতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর নিচু এলাকা, গলি ও প্রধান সড়ক—সবখানেই পানির স্রোত বইতে থাকে।
এদিকে, কয়েক ঘণ্টার বিরামহীন বৃষ্টিতে শহরের চিত্র পাল্টে যায়, সঙ্গে শুরু হয় ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ। অবিরাম বৃষ্টিতে পানি জমে কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও গাড়ি বন্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ভোগান্তি পড়েন অফিস ফেরত মানুষ।
মতিঝিলের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আয়েশা সুলতানা জানালেন, অফিস থেকে বেরোতেই ঝরঝর বৃষ্টি। বাসা রামপুরা—কিন্তু কোনো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। রিকশা চালকরা চাইছেন দ্বিগুণ ভাড়া। শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে রওনা দেন। কিন্তু কাকরাইলেই আটকে যান দীর্ঘ যানজটে। দুই ঘণ্টা পেরিয়েও পৌঁছাতে পারেননি বাসায়।
রাজধানীর অন্য এলাকাগুলোতেও একই অবস্থা। রাজাবাজারের বাসিন্দা জামাল হোসেন বের হয়েছিলেন জরুরি কাজে। রাস্তা পার হতে এখন মনে হয় নদী পার হচ্ছি, বলেন তিনি, হাটুপানি ঠেলে হাঁটতে হাঁটতে।
বৃষ্টিতে গাড়ি থেমেছে, পথচারীরা আশ্রয় নিয়েছেন দোকানের ছাউনির নিচে। কোথাও রিকশা-সিএনজির জন্য হুড়োহুড়ি, কোথাও হেঁটে বাড়ি ফেরা ছাড়া উপায় নেই। শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থা যে কতটা দুর্বল, অল্প সময়ের বৃষ্টি আবারও তার প্রমাণ দিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টিতে, রাজধানীর জুরাইন, নিউমার্কেট, মীর হাজারীবাগ, মিরপুর-১০ নম্বর, পশ্চিম ধোলাইপাড়, হাজারীবাগ, নামাপাড়া, পাইক রাস্তা, নন্দীপাড়া, ডেমরার ডগাইর, নাসিরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমেছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ ছত্তিশগড় অঞ্চলের সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশে অবস্থান করছে। এটি আরও দুর্বল হতে পারে, তবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সকাল ৯টা থেকে দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।