প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ২২:৩১ পিএম
প্রতিকী ছবি।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ–পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এক কর্মীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে উত্তর শরীফপাড়া এলাকার ফারুক মিয়ার গ্যারেজ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ধারণা, চোর সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের নাম আনোয়ার হোসেন বাবু (৪৩)। তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র সদরঘাট কার্যালয়ে ইলেকট্রিশিয়ান পদে চাকরি করতেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, পরিবারের সঙ্গে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলের মৃধাবাড়ী এলাকায় থাকতেন আনোয়ার। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। শুক্রবার ভোরে বাসা থেকে বের হয়ে যান তিনি। পরে ওই গ্যারেজে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহত আনোয়ারের ভাই দেলোয়ার হোসেন জানান, তারা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন তার ভাইকে পিটিয়ে ফারুকের গ্যারেজে হাত–পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছে। পরে তাদের মা দিলরুবা আক্তার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তখন তিনি ছেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় পান। আনোয়ার মাকে জানান, তাকে রড ও লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে পেটানো হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় তার। চোর সন্দেহে স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে পেটান বলে জানতে পেরেছেন স্বজনরা।
আনোয়ার মাদকাসক্ত ছিলেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের কিছুটা মানসিক সমস্যা ছিল। তবে সে মাদকাসক্ত ছিল না।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে গ্যারেজ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি- তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আনোয়ার হোসেন বাবু মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল বলেও একটি সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থেকে এখন মামলা করা হয়নি। মামলা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।