কার্গো ভিলেজে আগুন
তানভীর হাসান ও সাইফ বাবলু
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৫৫ এএম
নাশকতা ও দায়িত্বে অবহেলা সামনে রেখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নাশকতাকে। তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ক্রাইমসিনের সদস্যরাও সেখান থেকে ২১ ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে রাশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল। তদন্ত কমিটির একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এরই মধ্যে গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে রপ্তানি কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেট দিয়ে আমদানি পণ্য খালাস শুরু হয়েছে।
এদিকে আগুনে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠান পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছে। এদের মধ্যে আমদানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) জানিয়েছে, আগুনে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। সংগঠনটি আরও মনে করছে, আগুনের দায় কেউ এড়াতে পারে না। আগুনে এতবড় ক্ষয়ক্ষতির পর ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা হয়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানতে চাইলে বিমানবন্দর থানার ওসি তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত থানায় কোনো জিডি বা মামলা হয়নি। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মামলা বা জিডি করলে তদন্ত করবে পুলিশ।’
গতকাল সোমবার সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, কার্গো ভিলেজ এলাকায় গতকালও ছিল আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ ক্ষতিগ্রস্তদের ভিড়। এ সময় তাদের কাউকে কাউকে কাঁদতে ও দীর্ঘশ্বাস ফেলতেও দেখা গেছে। তবে উৎসুক জনতার ভিড় গতকাল ছিল আগের চেয়ে অনেক কম। কার্গো ভিলেজের পুড়ে যাওয়া ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখা যাচ্ছে না। ভবনের সামনে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি মোতায়েন রয়েছে এবং কয়েকজন কর্মী ভেতরে কাজ করছেন। পুরো এলাকায় পাহারা দিচ্ছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
একাধিক ভুক্তভোগী গতকাল ঘটনাস্থলে জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের। কারণ আগুনে সকল আমদানি পণ্য পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। এতবড় ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেবে, তা তারা ভেবেই পাচ্ছেন না। ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না, পেলে কতটা পাবেন, তা নিয়েও চিন্তিত। এ ছাড়া নতুন করে আগত শিপমেন্টগুলো কীভাবে নিরাপদে সরানো যাবে এবং কার্গো ভিলেজের আমদানি সাইট কবে থেকে চালু হবে, তা নিয়েও উৎকণ্ঠা রয়েছে তাদের।
ভুক্তভোগীদের কথা
টেলি বাংলাদেশ নামের সিএনএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ভারত ও চায়না থেকে আমরা গার্মেন্টস শিল্পের জন্য সুতা নিয়ে আসি। আগুনে আমাদের ৪৫টি শিপমেন্ট পুড়ে গেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। এর বেশিরভাগই স্যাম্পল ছিল। গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ায় রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। কারণ এসব কাঁচামাল দেশের বাজারে বিক্রি করা হয় না- বিভিন্ন পোশাক কারখানা এগুলো দিয়ে তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানি করে।’ তিনি বলেন, ‘এই সুতা দিয়ে বিদেশি অর্ডারের সোয়েটার তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন শিপমেন্টগুলো পুড়ে যাওয়ায় সেই অর্ডার বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে শুধু আমদানিকারকই নয়, আমরা সিএনএফ এজেন্ট- এমনকি পোশাক কারখানার কর্মচারীরাও ক্ষতির শিকার হয়েছি।’
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোম্পানি ইমুট্রান্স বাংলাদেশ লজিস্টিক্স লিমিটেডের ম্যানেজার (আমদানি-রপ্তানি শাখার ইনচার্জ) হাসান বলেন, ‘আমাদের চারটি ডকুমেন্টসহ প্রায় ১৩ হাজার ডলারের কনসাইনমেন্ট পুড়ে গেছে। এত বড় শিপমেন্ট হওয়ায় এটি ইনস্যুরেন্স করা ছিল বলে আশা করছি। সাধারণত বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি ও ইকুইপমেন্ট ইনস্যুরেন্সের আওতায় থাকে। ইনস্যুরেন্স থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইনের অধীনে কোম্পানি ক্ষতিপূরণ বহন করবে। তবে এখনও বায়ারদের কাছ থেকে ক্লেইম বা প্রতিক্রিয়া পাইনি। আমরা চাই সরকার আমাদের পাশে দাঁড়াবে। না হলে আমরা স্বাভাবিকভাবে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব না।’
জরুরি বৈঠকে চারটি সিদ্ধান্ত
এদিকে গতকাল সোমবার কাস্টম হাউসের সম্মেলন কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের পর আমদানি কার্যক্রম দ্রুত চালুর লক্ষ্যে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চারটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম সিদ্ধান্ত হলো, জরুরি ভিত্তিতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ আমদানি কার্গো এবং কুরিয়ারের মালামালসমূহ রাখার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করবে; বিষয়টি সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ইংরেজিতে লেখা চিঠির মাধ্যমে অবহিত করবে। কিন্তু গতকাল সোমবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চিঠি সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে ইস্যু করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশিশ এয়ারলাইনস, কুরিয়ার সার্ভিস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠির মাধ্যমে এ বিষয়টি জানানো হলে তারা আশ্বস্ত হতেন। ফলে আমদানি দ্রুত স্বাভাবিক হতো। এ প্রসঙ্গে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, কাস্টম হাউস, ঢাকার বৈঠকের চার সিদ্ধান্তের প্রথমটি ছিল সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ থেকে এই চিঠি ইস্যুর বিষয়টি। কারণ তাদের ছাড়া অন্য কারও চিঠিতে বিদেশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আশ্বস্ত হতে পারবে না। ‘আমরা পণ্য গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি’-এ রকম একটি চিঠি ইস্যুর জন্যও সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গতকালও চিঠি ইস্যু করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও গা-ছাড়া মনোভাবের কারণে সবকিছুই চলছে ঢিমেতালে। এখন ছোট ছোট কিছু শিপমেন্ট এলেও কোনোভাবেই ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না বলে আশঙ্কিত তারা।
আজ ক্ষতিগ্রস্ত অংশ উন্মুক্ত করা হবে
আগুন লাগার পর গত তিন দিনেও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকদের কেউ ভেতরে যেতে পারেননি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা ভেতরে যেতে পারছেন না। তবে সূত্র জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংশ্লিষ্টদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কাস্টম এজেন্ট এমপ্লয়িজকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ঢাকা কাস্টম এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন জানান, সোমবারও ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো কমপ্লেক্স এলাকা খোলা হয়নি। এখনও জানানো হয়নি, কী পরিমাণ মালামাল অক্ষত আছে। কুরিয়ার অংশে অনেক বায়ারের অ্যাপ্রুভড স্যাম্পল ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলো অক্ষত আছে কি না কেউ জানাতে পারছে না। ফলে বায়ারদেরও কোনো উত্তর দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। তবে তাদের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার পুড়ে যাওয়া গোডাউন পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সেই সঙ্গে আমদানিকারকদের কোনো পণ্য অক্ষত থাকলে জানানো হবে।
আলামত সংগ্রহে সিআইডির ক্রাইমসিন
এদিকে আগুনে পুড়ে যাওয়া কার্গো ভিলেজের বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট। একজন সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের টিম গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ২১ ধরনের আলামত সংগ্রহ করে। এসব আলামত ফরেনসিকের মাধ্যমে আগুনের সূত্র, ব্যাপক হওয়ার কারণ এবং কোনো ধরনের নাশকতার লক্ষণ ছিল কি না তা বের করার কাজ করবে সিআইডি।
সিআইডির পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন খান জানান, ২১ সদস্যের সিআইডির ক্রাইমসিন গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা ২১ ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছে। এসব আলামত ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। প্রতিবেদন সরকারের দায়িত্বশীলদের কাছে জমা দেওয়া হবে। মূলত এ আগুনে কোনো ধরনের নাশকতা ছিল কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। বিশেষ করে আগুন কী কারণে এত বড় হলো, নাশকতার কাজে ব্যবহৃত হয়- এমন কোনো কেমিক্যাল এতে ছিল কি না, সেসব বের করার চেষ্টা করবে ক্রাইমসিন।
ফায়ার সার্ভিসের ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
এদিকে কার্গো ভিলেজে লাগা ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের সিনিয়র স্টাফ অফিসার (মিডিয়া সেল) মো. শাহজাহান শিকদার জানান, ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিনকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ফায়ার সার্ভিসের জোন-৩-এর উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল মন্নান, কুর্মিটোলা স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নাহিদ মামুন, ঢাকা-১৯-এর ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. তোজাম্মেল হোসেন। গঠিত কমিটিকে অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু এবং আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তা সম্পন্ন করে নীতিমালা অনুসারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
কমিটির সদস্য সচিব উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল সোমবার অগ্নিকাণ্ডের স্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তদন্তের মধ্যে যত ধরনের অভিযোগ উঠেছে- সবই খতিয়ে দেখবেন। দায়িত্বশীলসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন। এর নেপথ্যে কোনো ধরনের নাশকতা ছিল নাকি এটি দুর্ঘটনা- এসব বিষয় তাদের তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা ছিল কি না, ভেতরের অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট কতটা কাজ করেছে- এসব বিষয় তারা খতিয়ে দেখবেন। তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়েও তারা সুপারিশ করবেন।
পণ্য খালাস শুরু
এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে রপ্তানি কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেট দিয়ে আমদানি পণ্য খালাস শুরু হয়েছে। ইএমঅন নামে একটি আমদানি প্রতিষ্ঠানের গার্মেন্টস পণ্যের চালান খালাস করার মধ্য দিয়ে এ কাজ শুরু হয়।
ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমদানি পণ্য পুড়ে গেছে। কিছু পণ্য সরানোর কারণে সেগুলো ভালো আছে। কিন্তু পুড়ে যাওয়া কার্গো ভবনের গেট দিয়ে পণ্য খালাস করার পরিবেশ নেই। এ কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রপ্তানি কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেট দিয়ে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করেছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুপুর ২টার দিকে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করে। ৭ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করা হলেও পুরোপুরি নির্বাপণে সময় লেগেছে ২৭ ঘণ্টা। কার্গো গোডাউনের সকল পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন অনেকে।