× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পোল্ট্রিখাতে হরিলুট চলছে: বিপিএ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ২২:২৩ পিএম

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ২৩:২৮ পিএম

সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পোল্ট্রিখাতে হরিলুট চলছে: বিপিএ

পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ৫ টাকা এবং ১ কেজি মুরগি ৯০ টাকা। কিন্তু আমাদের দেশে ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা এবং মুরগির ১৬৫ টাকা। এই অবস্থার পেছনের কারণ খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোটার্স ফোরামের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিপিএর সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি বাপ্পি কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ মো. সোহেল রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ আমজাদ হোসেন ও মোল্লা দপ্তর সম্পাদক শাহিন হাওলাদার প্রমুখ।    

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক খামারিরা প্রতিকূল পরিবেশেও উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অযৌক্তিক ফিডের দাম বৃদ্ধি, কর্পোরেট সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের কার্যকর তদারকির অভাবে পুরো পোল্ট্রি খাত গভীর সংকটে নিমজ্জিত। সরকারের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় এই খাতে প্রকৃত অর্থে চলছে অর্থনৈতিক হরিলুট।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশের কয়েকটি বড় কর্পোরেট গ্রুপ নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) নামে নিবন্ধনহীন ও বেআইনি সংগঠন গঠন করেছে। এই সংগঠন কোনো সরকারি স্বীকৃতি বা তদারকির আওতায় নেই। তবুও তারা ফিড, বাচ্চা ও ভ্যাকসিন ও মেডিসিন বাজারকে প্রভাবিত করছে এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে। ফলে দেশের প্রকৃত উৎপাদক অর্থাৎ প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।

সুমন হাওলাদার বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার স্বীকার করেছেন, ‘দেশের ৮০ শতাংশ ডিম উৎপাদন প্রান্তিক খামারিরা করেন’। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই অনুষ্ঠানে বা নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি; বরং কর্পোরেট কোম্পানিগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, যারা দেশের ৮০ শতাংশ ডিম উৎপাদন করেন, নীতি নির্ধারণে তাদেরও ৮০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে প্রান্তিক খামারিদের উপস্থিতি শূন্যের কোঠায়।

তিনি বলেন, সরকারি সভা, নীতি নির্ধারণ ও দিবস উদযাপন সবখানেই কেবল কর্পোরেট গ্রুপের প্রতিনিধিরাই উপস্থিত থাকেন এর ফলে পোল্ট্রি খাতের সিদ্ধান্তগুলো প্রান্তিক খামারির পক্ষের নয় বরং কর্পোরেট কোম্পানির স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে। 

ট্রেড এন্ড ট্রেরিফ কমিশনের ২০২৩ সালের এক গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বাজারে প্রতি কেজি ফিডে ১৫ থেকে ২০ টাকা অতিরিক্ত দাম নেয়া হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশের বাজারে প্রতি কেজি ফিডের দাম যদি ৩২-৪০ টাকার মধ্যে হয় ১টি ডিম উৎপাদন খরচ যদি ৫ টাকা এবং ১ কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ৮০-৯০ টাকা। আর আমাদের বাজারে ১টি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা ও ১ কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬৫ টাকা হয়? 

তিনি বলেন, ২০২১ সালে ৫০ কেজি লেয়ার ফিডের দাম ছিল ১৮০০-২০০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগীর ফিড ছিল ২২০০-২৪০০ টাকা। ১টি মুরগির বাচ্চার উৎপাদন খরচ ছিল ২০-২২ টাকা, বিক্রয় ২০-৩০ টাকার মধ্যে। ২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে ফিড কোম্পানি বস্তা প্রতি ১০০০-১২০০ টাকা বৃদ্ধি করে (প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকা দাম বৃদ্ধি হয়)। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম অর্ধেক নেমে গেলেও দেশে ফিডের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সয়াবিন মিল (কেক) ৭০-৮০ টাকা থেকে ৪৫-৫০ টাকা, ভুট্টা ৪০-৪৫ টাকা থেকে ২০-৩০ টাকা দাম কমেছে। ২৮-৩০ টাকার উৎপাদন খরচের বাচ্চা বর্তমানে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রয় করা হচ্ছে, কখনো কখনো ৮০- ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। মাঝে মাঝে ১০-১৫ টাকায় বিক্রি করে ছোট হ্যাচারিগুলোকে ক্ষতির মুখে ফেলে বাজার থেকে সরানো হচ্ছে। ফলে খামারিরা প্রতিটি ডিমে ২-৪ টাকা এবং প্রতি কেজি ব্রয়লারে ৩০-৪০ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছে। ১০-১২ টি কর্পোরেট একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রন করছে।

বর্তমান লেয়ার ফিড প্রতি কেজি ৫৮-৬০ টাকা (৫০ কেজি বস্তা ২৮০০-৩০০০ টাকা) ব্রয়লার ফিড প্রতি কেজি ৬৮-৭০ টাকা (৫০ কেজি বস্তা ৩৪০০-৩৫০০ টাকা) ডিম ও মুরগির দাম এখনও ২০২২ সালের স্তরে রয়ে গেছে। উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হলেও বাজারে সেই অনুযায়ী দাম বাড়েনি। 

এ অবস্থা নিরসনে বিপিএ ৭ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-কর্পোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে ফিড, মুরগির বাচ্চা, মেডিসিন/ভ্যাকসিনের দাম সরকার নির্ধারণ করবে; কর্পোরেট প্রভাবমুক্ত, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে; প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে; ফিড, বাচ্চা ও ঔষধের বাজারে নিয়মিত অডিট ব্যবস্থা চালু করতে হবে; উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ১০% লাভ যুক্ত করে ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম নির্ধারণ করতে হবে; ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য প্রণোদনা, সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ ও ভর্তুকি দিতে হবে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ও কর্পোরেটপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা